Category: জলভাগ

বঙ্গোপসাগরে সফল মিসাইল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নৌবাহিনীর বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ; বঙ্গোপসাগরে সফল মিসাইল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বাৎসরিক সমুদ্র মহড়া ‘এক্সারসাইজ সেফগার্ড-২০২০’।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এ মহড়া শেষ হয়।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বানৌজা বঙ্গবন্ধু থেকে সমাপনি দিনের মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধান অতিথি জাহাজে এসে পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল জাহাজে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

১৮ দিনব্যাপী এ মহড়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট, করভেট, ওপিভি, মাইনসুইপার, পেট্রোলক্রাফ্ট ও মিসাইল বোটসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাহাজ এবং নৌবাহিনীর মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফ্ট, হেলিকপ্টার এবং বিশেষায়িত ফোর্স সোয়াডস্ প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, সেনা ও বিমানবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট মেরিটাইম সংস্থাগুলো এ মহড়ায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে।

মোট ৪টি ধাপে অনুষ্ঠিত এ মহড়ার উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল নৌ বহরের বিভিন্ন কলাকৌশল অনুশীলন, সমুদ্র এলাকায় পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, লজিস্টিক অপারেশন, ল্যান্ডিং অপারেশন ও উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত নৌ স্থাপনাগুলোর প্রতিরক্ষা মহড়া প্রভৃতি।

নৌবাহিনীর এ বার্ষিক মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো সমুদ্র এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, সমুদ্র সম্পদের হেফাজত, সমুদ্র পথের নিরাপত্তা বিধানসহ চোরাচালানরোধ, জলদস্যুতা দমন, উপকূলীয় এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমুদ্র এলাকায় প্রহরা নিশ্চিতকরণ।

চূড়ান্ত দিনের মহড়ার উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে ছিলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে মিসাইল উৎক্ষেপণ অ্যান্টিএয়ার র‌্যাপিড ওপেন ফায়ার, আরডিসি ফায়ার, ভিবিএসএস বা নৌকমান্ডো মহড়া ও নৌ যুদ্ধের বিভিন্ন কলাকৌশল।

মহড়ার সফল সমাপ্তির পর প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে চট্টগ্রাম নৌ অলের সকল কর্মকর্তা ও নাবিকদের অভিনন্দন জানান এবং নৌ সদস্যদের পেশাগত মান, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা ব্যক্ত করেন।

দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্রিয় ভূমিকারও প্রশংসা করেন ভূমিমন্ত্রী।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উচ্চ পদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ক : সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ অর্জন করলেন পিএইচডি

পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান ৫,৫৫০ মিটার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ৯ ও ১০ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয়েছে ৩৭তম স্প্যান।

এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ৫ হাজার ৫৫০মিটার দৃশ্যমান হলো।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ওই স্প্যানটি বসানো হয়।

৩৬তম স্প্যান বসানোর ছয় দিনের মাথায় বসানো হলো এ স্প্যান। পদ্মা সেতুর আর মাত্র ৪টি স্প্যান বসানো বাকি থাকলো।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন- সব পিয়ার ও স্প্যান প্রস্তুত থাকায় এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্প্যান বসানো সম্ভব হচ্ছে।

জানা গেছে- ১৬ নভেম্বর ১ ও ২ নম্বর পিয়ারে ৩৮তম স্প্যান ( স্প্যান ১-এ), ২৩ নভেম্বর ১০ ও ১১ নম্বর পিয়ারে ৩৯তম স্প্যান (স্প্যান ২-ডি), ২ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নম্বর পিয়ারে ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) ও আসছে ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৪১ নম্বর স্প্যান (স্প্যান ২-এফ) বসানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সবমিলে ১০ ডিসেম্বরই পুরো সেতুটি দৃশ্যমান হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগেরও বেশি।

নদী শাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৫০ ভাগ।

প্রাপ্ত তথ্যমতে- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৭৯৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম বৃহৎ এ প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।

নদীশাসনের কাজ পেয়েছে চীনেরই অপর এক প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

আর দুটো সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

এ বিষয়ক : পদ্মা সেতুতে বসলো ৩৬তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৫৪০০ মিটার

পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান সোয়া পাঁচ কিলোমিটার

পদ্মা সেতুতে বসলো ৩৬তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৫৪০০ মিটার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; মুন্সিগঞ্জ : মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হলো ৩৬তম স্প্যান। ফলে দৃশ্যমান হলো ৫ হাজার ৪শ মিটার।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে ওই স্প্যান বসানো হয়।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আব্দুল কাদের গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ হিসাবে পদ্মা সেতুর আর মাত্র ৫টি স্প্যান বসানোর বাকি রইলো।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী- আগামী ১১ নভেম্বর ৯ ও ১০ নম্বর পিয়ারের ওপর ৩৭তম স্প্যান (স্প্যান ২-সি), ১৬ নভেম্বর ১ ও ২ নম্বর পিয়ারে ৩৮তম স্প্যান ( স্প্যান ১-এ), ২৩ নভেম্বর ১০ ও ১১ নম্বর পিয়ারে ৩৯তম স্প্যান (স্প্যান ২-ডি), ২ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নম্বর পিয়ারে ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) ও আসছে ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর ৪১ নম্বর স্প্যান (স্প্যান ২-এফ) বসানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সবমিলে ১০ ডিসেম্বরই পুরো সেতুটি দৃশ্যমান হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগেরও বেশি।

নদী শাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৫০ ভাগ।

প্রাপ্ত তথ্যমতে- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৭৯৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম বৃহৎ এ প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।

নদীশাসনের কাজ পেয়েছে চীনেরই অপর এক প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

আর দুটো সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

এ বিষয়ক : পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান সোয়া পাঁচ কিলোমিটার

পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান ৫ কিলোমিটার

পদ্মা সেতুর সব স্প্যান প্রস্তুত

প্রধানমন্ত্রী : সমুদ্রসীমা রক্ষায় নৌবাহিনীকে আমরা শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছি

বাসস : সমুদ্রসীমা রক্ষায় তাঁর সরকার নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌবাহিনীতে পাঁচটি জাহাজ কমিশনিংকালে এ কথা জানান।

কমিশনিং করা জাহাজগুলো হলো- নতুন দুটো আধুনিক ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক ও আবু উবাইদাহ; একটি করভেট যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাশা এবং দুইটি জরিপ জাহাজ বানৌজা দর্শক ও তল্লাশী।

প্রধানমন্ত্রীর কমিশনিংয়ের ফলে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকেই বাংলাদেশের জলসীমা সুরক্ষা ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির করে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করলো এসব জাহাজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- বিশাল এই সমুদ্রের সম্পদ আহরণ এবং একে কাজে লাগানোই আমাদের লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আর জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সমুদ্রসীমাকে রক্ষার জন্য নৌবাহিনীকেও আমরা শক্তিশালী করে গড়ে তুলছি।

‘সমুদ্রসীমা অর্জন কেবল নয় এই সমুদ্র সম্পদটা যেন দেশের উন্নয়নে ব্যয় হয়, সেজন্য আমাদের কাজ করতে হবে এবং সেজন্যই আমরা সুনীল অর্থনীতি পদক্ষেপ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন- বাংলাদেশ নৌবাহিনী তার ক্রমাগত অগ্রযাত্রায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। দিনটি (কমিশনিং করার দিন বৃহস্পতিবার- ৫ নভেম্বর) শুধু বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নয়, সমগ্র দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

এর আগে চট্টগ্রামে বানৌজা ঈশাখান নৌ জেটিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল জাহাজগুলোর অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে নামফলক উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকশ দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসর) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে অনেক প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সমুদ্র এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করছে, যা প্রশংসার দাবিদার।

জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত দেশের পরাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আারও বলেন- ‘আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাই না।’

‘কিন্তু যদি বাংলাদেশ কখনও বহিঃশত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হয়, একে মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা আমরা অর্জন করতে চাই।’

সরকারপ্রধান আরও বলেন- আমাদের সুশৃৃঙ্খল সশস্ত্রবাহিনী দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিপুল প্রশংসিত পেশাদার একটি বাহিনী।

‘২০১০ সাল থেকে ভূ-মধ্যসাগরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে আমাদের যুদ্ধজাহাজ সার্বক্ষণিকভাবে অংশগ্রহণ করছে। এই বছরের আগস্ট মাসে আমরা সেখানে পাঠিয়েছি আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি করভেট বানৌজা ‘সংগ্রাম’, যা বহির্বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।’

‘এ ছাড়া দক্ষিণ সুদানেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন- শান্তিরক্ষা মিশন ছাড়াও এ বাহিনী (নৌবাহিনী) নিয়মিতভাবে বহুজাতীয় এক্সারসাইজ, বঙ্গোপসাগরে ‘কোর্ডিনেটেড প্যাট্রল’ ও কূটনৈতিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের ‘মেরিটইম সিকিউরিটি’-কে সুসংহত করে চলেছে।

শেখ হাসিনা বলেন- মালদ্বীপে যখন সুপেয় পানির অভাব হয়েছিলো, তখন আমরা আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজ দিয়ে সুপেয় পানি সেখানে পাঠাই এবং তাঁদের সহযোগিতা করি।

এভাবেই দেশে এবং প্রতিবেশি দেশেও বাংলাদেশ নৌবাহিনী নানারকম সহযোগিতা প্রদান করে যাওয়ায় তিনি এই বাহিনীকে ‘কর্মমুখর’ আখ্যায়িত করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান।

‘ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজনে একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন করা হবে’- বঙ্গবন্ধুর ভাষণের এই উদ্ধৃতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, তাঁরই (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) পদাঙ্ক অনুসরণ করে নৌবাহিনীকে আধুনিক দক্ষ ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ তাঁর সরকার নিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন- আমাদের সরকার নৌবাহিনীতে বর্তমান প্রজন্মের উন্নত সাবমেরিন, যুদ্ধ জাহাজ, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্র্যাফট, হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত বাহিনী সংযোজন করেছে এবং এর মাধ্যমে ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলায় আমরা একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।

‘কমিশনপ্রাপ্ত জাহাজগুলো নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী, দক্ষ এবং বেগবান করবে বলেই বিশ্বাস করি।’

এ বিষয়ক : বিচারকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী : আদালতের রায় ইংরেজির সঙ্গে বাংলায়ও লিখুন

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ২২ দিনের ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত ১২টায়।

নৌকা-জাল মেরামতসহ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা ইতোমধ্যে মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে ইতোমধ্যে যাওয়া শুরু করেছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে- ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে (১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত) মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ ছিলো।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর সম্মিলিতভাবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করছে।

৩৬টি জেলার ১৫২ উপজেলায় ওই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নরসিংদী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কক্সবাজার, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা ও ঝালকাঠি।

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারের মানবিক খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য ১০ হাজার ৫৬৬ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করা হয়।

এ সময় ৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২টি জেলে পরিবারের জন্য ২০ কেজি হারে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম শুরুর পূর্বেই এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন- ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে কোনোভাবেই মা ইলিশ আহরণ করতে দেওয়া হয় নি। মা ইলিশ থাকতে পারে এমন নদীতেও জেলেদের নামতে দেওয়া হয় নি।

ওয়ার্ল্ডফিশের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের ৮৬ ভাগ আসে বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশই ইলিশ।

আর দেশের জিডিপি’তে ইলিশের অবদান এক শতাংশেরও বেশি।

সম্প্রতি পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর বাংলাদেশকে ইলিশের ভৌগোলিক নিবন্ধন প্রদান করেছে।

মৎস্য অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে- বর্তমানে বাংলাদেশে ইলিশের টেকসই উৎপাদন বছরে ৬ লাখ ৭০ হাজার টন।

এ বিষয়ক : ইলিশ ধরা ও বিক্রিতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান সোয়া পাঁচ কিলোমিটার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; মুন্সিগঞ্জ : মাওয়া প্রান্তে ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে ৩৫তম স্প্যান। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর ৫ হাজার ২৫০মিটার (সোয়া পাঁচ কিলোমিটার)।

ফলে পুরো সেতুতে বসানোর বাকি থাকলো মাত্র ছয়টি স্প্যান।

৩৪তম স্প্যান বসানোর সাত দিনের মাথায় বসলো এই স্প্যান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে ওই স্প্যান বসানো হয়েছে বলে বাংলা কাগজকে নিশ্চিত করেছেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আবদুল কাদের।

এর আগে সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় অবস্থিত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি বহন করে ক্রেন তিয়ান-ই রওয়ানা দেয়।

রওয়া হওয়ার ৩২মিনিট পর কাঙ্ক্ষিত পিলারের কাছে পৌঁছে ৩ হাজার ৬০০ টন সক্ষমতার ওই ক্রেন।

তিয়ান-ই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান ক্রেন বলেই জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

এর আগে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয় নি বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ক : পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান ৫ কিলোমিটার

নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানীসহ উপকূলীয় এলাকায় সকাল থেকেই বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের উপকূলের বেশ কয়েকটি জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে নৌ চলাচলও।

বাংলাদেশ ও প্রতিবেশি দেশ ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী- বঙ্গোপসাগরের বায়ুচক্রটি নিম্নচাপ আকারেই শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ৯টা থেকে বিকেল ৩টা মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ ও বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝামাঝি এলাকায় সুন্দরবনের ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে তা সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সেটি আরও ঘনীভূত হয়ে প্রথমে নিম্নচাপ এবং দুপুরের পর গভীর নিম্নচাপের রূপ পায়।

এর প্রভাবে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকেই।

এই প্রবণতা শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় দেশের সর্বোচ্চ ২৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর ঢাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ মিলিমিটার।

শুক্রবারের (২৩ অক্টোবর) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- নিম্নচাপের প্রভাবে সকাল ১০টা থেকে পরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (৮৯ মিলিমিটার বা তার বেশি) বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া দেশের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দুইদিন এই প্রবণতা থাকার পর বৃষ্টি কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চল এবং দ্বীপ ও চরগুলো স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

এ বিষয়ক : প্রেসিডেন্ট’স কাপের ফাইনাল দুইদিন পিছিয়ে রোববার

বৃষ্টি থাকতে পারে তিনদিন, ১০৯০ তে দুর্যোগের খবর

তথ্যবিবরণী ও নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য আবহাওয়ার বার্তা, নদীবন্দরগুলোর জন্য সর্তকতা সংকেত ও ঘূর্ণিঝড়ের বিশেষ বার্তা জানতে যে কোনও মোবাইল অপারেটর থেকে ১০৯০ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এদিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় (১৯ দশমিক ৫০ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৬ দশমিক ৫০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

এজন্য বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি চলতে পারে মোট তিনদিন। ফলে শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টি থাকতে পারে।

সরকারের তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে- নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিলো।

এটি আরো ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রে ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে।

সবমিলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত নামিয়ে এর পরিবর্তে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ক : ভারতে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ

নৌশ্রমিকদের কর্মবিরতি : বৈঠক বিকেলে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নৌশ্রমিকদের কর্মবিরতির তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবারও (২২ অক্টোবর) সারাদেশের নৌপথে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা চলছে। কর্মবিরতির মধ্যে বিদেশ থেকে প্রতিদিন আমদানি পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে আসা বড় জাহাজও আটকা পড়ছে। এতে আটকা পড়া পণ্যের পরিমাণ বাড়ছে। এমন অবস্থায় বিকেলে মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী- সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৪২টি বড় জাহাজে প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য আটকা পড়েছে। বন্দরের বড় জাহাজগুলো থেকে পণ্য নিয়ে সারাদেশের ৩৯টি নৌঘাটে নোঙর করে রাখা ৯২৫টি লাইটার জাহাজে আটকে আছে আরও ১২ লাখ টন পণ্য।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বানে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। নৌশ্রমিকদের খাদ্য ভাতা, ঝুঁকি ভাতাসহ ১১ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা। কর্মসূচি শুরুর পর সারাদেশে একযোগে নৌপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মবিরতি শুরুর আগে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। কিন্তু দুই পক্ষই অনড় থাকায় কোনও সমাধান হয় নি।

তবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান সব পক্ষকে নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

জানতে চাইলে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ বাংলা কাগজকে বলেন- আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতির চাকা বন্ধ করে এমন কর্মসূচি দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। কারণ কর্মবিরতির কারণে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে খরচ বাড়ছে, তার ভুক্তভোগী হবে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ। ছোট বিষয় নিয়ে দেশের অর্থনীতি বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই উচিত নয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে প্রতিদিন ৪০-৫০টি জাহাজ থেকে গড়ে দেড় লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস হয়। গত দুই দিনে কোনও পণ্য খালাস না হওয়ায় বন্দরের ওপর চাপ পড়ছে। বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য স্থানান্তরের কার্যক্রম এখন কার্যত অচল হয়ে আছে। তবে জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস স্বাভাবিক আছে। ছোট জাহাজগুলো জেটিতে এনে খালাস করা হয়।

শিপ হ্যান্ডেলিং ও বার্থ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান রাসেল বাংলা কাগজকে বলেন- কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে লাইটার জাহাজ সংকট তৈরি হবে। বন্দরের বহির্নোঙরেও জাহাজজট তৈরি হবে। এই জট নিরসনে অনেক সময় লাগবে।

এদিকে, কর্মবিরতি চালিয়ে নিতে অনড় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম বাংলা কাগজকে বলেন- ১১ দফা নৌযানশ্রমিকদের মৌলিক দাবি। মালিকপক্ষ আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি। শ্রমিকেরা কর্মবিরতি কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি মানলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

নৌযান মালিকপক্ষের অন্যতম সংগঠন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বাংলা কাগজকে বলেন, ‘বন্দর চেয়ারম্যান আজ যে বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। আশা করি, সমাধান হবে।’

এ বিষয়ক : মালিকপক্ষ : নৌপথে ধর্মঘট চললে বেতনভাতা বন্ধ

মালিকপক্ষ : নৌপথে ধর্মঘট চললে বেতনভাতা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : নৌপথে ধর্মঘট চললে বেতনভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন লঞ্চ মালিকেরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাঁরা এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এর আগে বেতনভাতা বৃদ্ধি ও নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকেন নৌযান শ্রমিকেরা।

বন্ধ করে দেন সকল পণ্যবাহী নৌযান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ওই ধর্মঘট শুরু হয়।

ধর্মঘটের প্রথম দিনে দেশের সব বন্দরে পণ্য পরিবহন বন্ধ ছিল। তবে চলাচল করেছে যাত্রীবাহী নৌযান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বাংলা কাগজকে বলেন, ‘মালিকরা আমাদের দাবি মেনে নেন নি, তাই যৌক্তিক দাবিতে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক ধর্মঘটে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে যাত্রীবাহী লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২০১৬ সালের আগে, যে তাঁরা আর আন্দোলনে যাবেন না। এজন্য তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণ করা হয়।’

‘এ অবস্থায় শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে গেলে তাঁদের বেতনভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ক : সেবাদাতারাই অপসারণ করবেন তার, সোমবার শুরু

পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান ৫ কিলোমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : পদ্মা সেতুতে মাত্র আট দিনের ব্যবধানে বসানো হয়েছে আরও একটি স্প্যান। ওই ৩৩তম স্প্যান সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে মাওয়া প্রান্তে সেতুর ৩ ও ৪ নম্বর পিয়ারের ওপর ১-সি স্প্যানটি বসানো হয়। এর মাধ্যমে সেতুর ৪ হাজার ৯৫০ মিটার বা প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হলো।

এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আবদুল কাদের স্প্যান বসানোর বিষয়টি জানান।

৩৩তম স্প্যান বসানোর ফলে পদ্মা সেতুর ওপর আর মাত্র আটটি স্প্যান বসানো বাকি থাকলো।

সেতুর প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, করোনা ও বন্যার কারণে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছিলো। বর্তমানে পদ্মা নদীতে পানির গভীরতা অনুকূলে আসায় প্রকৌশলীরা স্প্যান বসানোর কাজে গতি এনেছেন।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর পদ্মা সেতুর ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয় ৩২তম স্প্যান। ৩১তম স্প্যান বসানোর ৪ মাস পর এই স্প্যানটি বসানো হয়েছিলো।

এদিকে পদ্মা সেতুতে এবার আটটি স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর পিয়ার ৭ ও ৮ নম্বরের ওপর ৩৪তম স্প্যান (স্প্যান ২-এ), ৩০ অক্টোবর পিয়ার ৮ ও ৯ নম্বরের ওপর ৩৫তম স্প্যান (স্প্যান ২-বি), ৪ নভেম্বর পিয়ার ২ ও ৩ নম্বরে ৩৬তম স্প্যান (স্প্যান ১-বি), ১১ নভেম্বর পিয়ার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান (স্প্যান ২-সি), ১৬ নভেম্বর পিয়ার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান ( স্প্যান ১-এ), ২৩ নভেম্বর পিয়ার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান (স্প্যান ২-ডি), ২ ডিসেম্বর পিয়ার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) ও সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান (স্প্যান ২-এফ) বসবে আগামী ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর।

ফলে আগামী ১০ ডিসেম্বরই পুরো সেতুটি দৃশ্যমান হবে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগ।

নদী শাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৫০ ভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৭৯৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এ বিষয়ক : ৪ আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শেখ হাসিনা

পদ্মা সেতুর সব স্প্যান প্রস্তুত

পদ্মায় বসলো ৩২তম স্প্যান, দৃশ্যমান ৪৮০০ মিটার, বাকি রইলো ৯

ইলিশ ধরা ও বিক্রিতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহনের ওপর ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি, বাজারজাত, মজুত ও পরিবহন বন্ধ থাকবে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রতিবছরের মতো এই বছরও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির আওতায় নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সমুদ্র উপকূলসহ সারাদেশে কঠোর নজরদারি চলবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

এই ২২ দিন গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, সমুদ্র মোহনায় কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার থাকবে।

মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে- উপকূলীয় জেলা ও দক্ষিণাঞ্চল মিলিয়ে ৩৬টি জেলায় এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রথমবারের মতো বরিশাল বিভাগের ছয়টিসহ মোট ১৭টি জেলায় বরফ উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশের নদ-নদী মোহনা ও সাগর থেকে আহরিত হয়।

এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরিশাল বিভাগের দুই লাখ ৮২ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের জন্য পাঁচ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল ও সারাদেশে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২ জেলে পরিবারের জন্য মোটি ১০ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে বলে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

উৎপাদন বাড়াতে ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে ২০১০ সাল থেকে।

দশ বছর আগে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন, নানা পদক্ষেপের ফলে যা বেড়ে এখন পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে বলে মৎস্য কর্মকর্তারাদের ভাষ্য।

মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলছেন- এ বছর মা ইলিশের প্রজনন হার ৫০ শতাংশের বেশি হবে। গত বছর প্রায় ৪৮ দশমিক ৯২ শতাংশ ডিম নিষিক্ত হতে পেরেছিল। বর্ষার শুরুতে ভারি বৃষ্টি নদীতে ইলিশের আগমনের পক্ষে উপযুক্ত। অনুকূল পরিবেশ ও নদীর পানিতে দূষণ কম হওয়ায় এবার ইলিশ প্রজনন বাড়তে পারে।

এ বিষয়ক : রেজাউল : ইলিশ আহরণের অবৈধ প্রচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না