Category: জঙ্গিবাদ এবং রোধ ও দমন

কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনির গুলিতে ৪ জঙ্গি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনির জঙ্গিবিরোধি অভিযানে ৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা থেকেই এই অভিযান শুরু হয় বলে আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অভিযানে সোপিয়ান ও পুলওয়ামায় ৪ জন নিহত হয়েছে। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ সেনাসদস্যও আহত হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সোপিয়ানে সংঘর্ষে ৩ জঙ্গি নিহত হয়। এর বাইরে দুই জঙ্গি জান মহল্লা এলাকার একটি মসজিদ থেকে নিরাপত্তা বাহিনির সদস্যদের ওপর গুলি চালালে ৪ জওয়ান আহত হয়।

ওই মসজিদকে ঘিরে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকালেও গোলাগুলি চলছিলো।

পুলওয়ামার ত্রালে বেশ কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে আছে খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনি সেখানেও অভিযানে নামে। অভিযানে এক জঙ্গির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে কাশ্মীর পুলিশ।

নিহতরা কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায় নি।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৪ জঙ্গিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সমাবেশস্থলে বোমা পুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় ১৪ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবু আব্দুল্লাহ ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় আমরা অভিযোগ প্রমাণিত করতে পেরেছি।

এর আগে গত ১১ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৩ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

এই ঘটনায় মোট ৩টি মামলা হয়েছিলো। তারমধ্যে দুইটি মামলার রায় বিচারিক আদালতে আগেই হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) অপর মামলার রায় ঘোষণা হলো।

বোমা পুঁতে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলা : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসেছিলো ১৯৯৬ সালে।

সেই সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০০ সালের ২০শে জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে বোমা পেতে রাখা হয়েছিলো। সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের ওই বোমাটি উদ্ধার করে। পরদিন ২৩শে জুলাই ৪০ কেজি ওজনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানের পেছনে এই বোমা পেতে রাখা হয়েছিলো। বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শেখা হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

সেই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট ৩টি মামলা করা হয়।

ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০০১ সালে ১৫ নভেম্বর হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি।

২০০৪ সালের ২১শে নভেম্বর আদালতে ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

তবে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলার রায়ে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় অপর মামলার রায় : এর আগে বোমা পুঁতে হত্যা চেষ্টা মামলা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। রায়ে গুলি করে তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়।

সেই সঙ্গে ১৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতাকর্মি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হত্যাচেষ্টা মামলায় আপিলের রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি ও ১৪ বছর দণ্ডিত ২ আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়েছে। ১৪ বছর দণ্ডিত অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

থানায় জিডি : বাংলা কাগজ সম্পাদক ও প্রকাশকের মোটরসাইকেলে ধাক্কা : নজর বিকাশ, জঙ্গিবাদ ও আল-জাজিরার দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিকাশ নিয়ে প্রতিবেদনের পরদিনই বাংলা কাগজ সম্পাদক ও প্রকাশের মোটরসাইকেলে ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি নিজে মিরপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির বিরুদ্ধে বিশেষ প্রতিবেদন করে আসারসঙ্গে বাংলা কাগজ ধারাবাহিকভাবে জঙ্গিবাদ ও আল-জাজিরার ইস্যুগুলোতে জোরালোভাবে বিরোধিতা করে আসছে।

সবমিলে বাংলা কাগজ সম্পাদক ও প্রকাশক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার সময় বিকাশ, জঙ্গিবাদ ও আল-জাজিরার যেসব অপশক্তি গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হানতে চায়; বিশেষ করে বাংলা কাগজ যাদের টার্গেট, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

১০/০৩/২০২১ খ্রিস্টাব্দে মিরপুর মডেল থানায় করা জিডিতে (নম্বর : ৭৭৮) বাংলা কাগজ সম্পাদক ও প্রকাশক উল্লেখ করেছেন, আমি আমার অফিস সহকারি রনি (রানা) কে নিয়ে ১০/০৩/২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে দুপুর ১টার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন থানার উত্তরপাশ দিয়ে যাওয়া সড়ক দিয়ে মিরপুর বিআরটিএতে যাচ্ছিলাম। এ সময় আমি প্রজাপতি পরিবহনকে পাশ কাটতে থাকাকালে আমার মোটরসাইকেল (নম্বর : ঢাকা মেট্রো হ : ৬৫-৮৭৮৭) এবং প্রজাপতি বাসের মাঝখান দিয়ে ঢাকা মেট্রো চ : ৫৬-৪৩৪৬ নম্বরের একটি মাইক্রোবাস যাওয়ার সময় আমার বাইককে কিছুটা ধাক্কা দেয়। এতে আমি ও আমার বাইক এবং আমার সহকর্মি অক্ষত থাকলেও আমি যেহেতু বাংলা কাগজ এর সম্পাদক ও প্রকাশ এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করছি, এ অবস্থায় জঙ্গিবাদ বা বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি।

সাধারণ ডায়েরিতে অভিযুক্ত ড্রাইভারের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে : মো. শামীম (৪৪), পিতা : মৃত আবুল হাসেম, গ্রাম : বড়ইগাঁও, থানা মতলব, জেলা : চাঁদপুর।

জিডিতে উল্লেখিত অভিযুক্ত ব্যক্তি ড্রাইভার মো. শামীমের বর্তমান ঠিকানা : বাসা নম্বর : ১৫, রোড নম্বর : ৯, সেক্টর নম্বর : ৯, উত্তরা ঢাকা।

‘এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির মুঠোফোন নম্বর : ০১৭১২২৮৫৪৭২।’

উল্লেখ করা যেতে পারে, জঙ্গিবাদ এবং আল-জাজিরা ইস্যুতে বাংলা কাগজ বরাবরের মতোই কঠোর অবস্থানে থাকার পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির বিরুদ্ধে সব সময়ই সোচ্চার। এরইঅংশ হিসেবে বিশেষ প্রতিবেদনের মধ্যে সর্বশেষ ৯ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বাংলা কাগজ নির্দেশনা মানছে না বিকাশ, অবহেলা কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও! : কঠোরতার ‘হুঁশিয়ারি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

স্বাধীনতার মাসে মাথাচাড়া দিতে চায় জঙ্গিবাদ!

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : হঠাৎকরেই স্বাধীনতার মাসে মাথাচাড়া দেওয়ার ‘চেষ্টায় রয়েছে’ দেশের জঙ্গিরা। সেজন্য তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ছাড়াও কোনও ধরনের কার্যক্রম চালালে সেটি যাঁদের মাধ্যমে বাঁধার মুখে পড়তে পারে, এমন ব্যক্তি বা সংগঠনের ব্যাপারে কঠোর সজাগ ও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে কোনোভাবেই জঙ্গিরা তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে না। বিষয়টি ভালোভাবে জেনেই ‘সরকারপতন সংক্রান্ত’ যে কোনও আন্দোলনেই অংশ নিতে চায় জঙ্গিদের বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন।

এক্ষেত্রে ন্যায্য দাবির আন্দোলনগুলোতেও জঙ্গিরা অংশ নিয়ে সেটিকে সরকারপতন সংক্রান্ত আন্দোলনে রূপ দিতে সচেষ্ট থাকছে। এরইঅংশ হিসেবে চলমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সুশীল সমাজের আন্দোলনের জঙ্গিরা অংশ নিতে চাইছে বলেই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বিভিন্ন বাহিনির কারণে সুবিধা করতে পারছে না তারা।

পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনির কাছে খবর রয়েছে, দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে অস্ত্র এনে মজুতের চেষ্টা করছে কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। তারা ব্যবহার করতে চাইছে রোহিঙ্গাদেরও।

পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলো মাদক বিক্রি বা মাদক বিনিময় করে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, শোকের মাস এলেই দেশে মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে জঙ্গিরা। এক্ষেত্রে ভাষা, স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাসকেও তারা বেছে নেয়। এ কারণেই ভাষার মাসে বইমেলার কাছাকাছি স্থানে দেশে কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র।

তবে এসব ঘটনার পর সাদা পোশাকের গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনির তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে এখন নির্মূলের অবস্থায় রয়েছে জঙ্গিরা।

২৭ ফেব্রুয়ারি : জঙ্গি আক্রমণের শিকার হন ড. হুমায়ুন আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আজ শনিবার; ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ; ১৪ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)।

আজকের দিনটি গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বছরের ৫৮তম দিন।

এ হিসাবে, বছর শেষ হতে আরও ৩০৭ দিন বাকি রয়েছে।

আজকের দিনে একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে জঙ্গি আক্রমণের শিকার হন ড. হুমায়ুন আজাদ।

ঘটনাবলি :
১৫০৯ : ব্রাজিলের ওপর পর্তুগালের দীর্ঘমেয়াদি কর্তৃত্ব শুরু হয়।
১৫৫৭ : লন্ডনে রাশিয়ার দূতাবাস কাজ শুরু করে।
১৫৯৪ : চতুর্থ হেনরি ফ্রান্সের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
১৭০১ : পোলান্ড ও সুইডেনের মধ্যে ৬ দিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
১৮০৩ : ভারতের বোম্বেতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়।
১৮৪৪ : ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের ওপর হাইতির দখলদারিত্বের অবসান ঘটে এবং দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।
১৮৫৮ : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ঝাঁসি দখল করে।
১৮৬৫ : মিসৌরিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
১৮৭৪ : ব্রিটেনে প্রথম বেসবল খেলা শুরু হয়।
১৯০০ : ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে ব্রিটিশ লেবার পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৩৩ : কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্রের অজুহাতে জার্মান নাৎসিরা রাইখস্টাগে অগ্নিসংযোগ করে।
১৯৩৯ : ব্রিটেন ও ফ্রান্স স্পেনের জেনারেল ফ্রাংকোর গণবিরোধি সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৪২ : জাপানি জঙ্গি বিমানগুলো মিত্র বাহিনীর জাহাজগুলোর ওপর বোমা বর্ষণ শুরু করে।
১৯৬৭ : মহাশূন্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৭৩ : বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন গঠিত হয়।
১৯৭৪ : বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় নাইজেরিয়া।
১৯৯১ : বাংলাদেশে পঞ্চম সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা শুরু হয়।
২০০২ : ভারতের গুজরাটে হিন্দু কট্টরপন্থীদের বহনকারি ট্রেনে উগ্রবাদিরা অগ্নিসংযোগ করে। এতে দগ্ধ হয়ে ১৫টি শিশুসহ ৭০ জনের মতো নিহত হয়।
২০০৪ : ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামক ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের আক্রমণের শিকার হন বাংলাদেশি ভাষাবিজ্ঞানী, সাহিত্যক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ।

জন্ম :
০২৭২ : রোমান সম্রাট মহান কন্সট্যান্টাইন জন্মগ্রহণ করেন।
১৮০৭ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কবি ও শিক্ষাবিদ হেনরি ওয়েডসওয়ার্থ লংফেলো জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৩২ : সাংবাদিক আলফ্রেড পোলার্ড এডওয়ার্ড জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৪৬ : জার্মান ইতিহাসবিদ ও রাজনীতিক ফ্রানয এর্দমান মেহরিং জন্মগ্রহণ করেন।
১৮৮১ : লাউৎসেন এখবার্টস ইয়ান ব্রাউয়ার, ওলন্দাজ গণিতবিদ।
১৯০২ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক জন স্টাইন্‌বেক্‌ জন্মগ্রহণ করেন।
১৯১২ : ভারত বংশোদ্ভূত ফরাসি লেখক, কবি ও নাট্যকার লরেন্স ডুরেল জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৬ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ি কানাডিয়ান নিউরোবায়োলজিস্ট ডেভিড হান্টার হুবেল জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৯ : ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার দালমা পেরেইরা দিয়াস দস সান্তোস জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪০ : ভি বিশ্বনাধন, ভারতীয় চিত্রশিল্পী।
১৯৪২ : পুরস্কার বিজয়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রসায়নবিদ রবার্ট হাওয়ার্ড গ্রাবস জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫৭ : ইংরেজ অভিনেতা টিমোথি স্পাল জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৭৮ : জর্জিয়ান ফুটবলার কাখা কালাডযে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮১ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গায়ক, গীতিকার, প্রযোজক ও অভিনেতা জশ গ্রবান জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৮৫ : রাশিয়া ফুটবলার ডিনিয়ার বিলইয়ালেটডিনভ জন্মগ্রহণ করেন।

মৃত্যু :
১৬৫৯ : হার্ভার্ড কলেজের প্রথম সভাপতি হেনরি ডানস্টের।
১৭৭৬ : স্কট চিত্রশিল্পী জর্জ ম্যামসন।
১৮৩৪ : প্রাবন্ধিক সমালোচক ও কবি চার্লস ল্যাম্প।
১৮৮৭ : রাশিয়ান সুরকার ও রসায়নবিদ আলেকজান্ডার বরডিন।
১৯৩১ : চন্দ্রশেখর আজাদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বিপ্লবি (জন্ম : ২৩/০৭/১৯০৬ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৩৬ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রাশিয়ান শারীরবিজ্ঞানী ইভান পেত্রোভিচ পাভলভ।
১৯৪০ : জার্মান স্থপতি পিটার বারনেস।
১৯৫৬ : গনেশ বাসুদেব মাভালঙ্কার, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবি ও লোকসভার প্রথম স্পিকার তথা অধ্যক্ষ (জন্ম : ২৭/১১/১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৬৫ : কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত, বাঙালি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক (জন্ম : ০৬/০৮/১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৭৭ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক জন ডিকসন কার মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৮৯ : নোবেল বিজয়ি অস্ট্রিয়ান প্রাণিবিজ্ঞানী কনরাড লরেঞ্জের।
১৯৯৩ : লিলিয়ান গিশ, মার্কিন অভিনেত্রী, পরিচালক ও লেখিকা (জন্ম : ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দ)।
১৯৯৮ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানি জর্জ হার্বার্ট হিচিংস।
২০০২ : আইরিশ কৌতুকাভিনেতা, অভিনেতা ও লেখক স্পাইক মিলিগান মৃত্যুবরণ করেন।
২০১১ : নাজমউদ্দিন এরবাকান, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (জন্ম : ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ)।
২০১২ : শৈলেন মান্না ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের কিংবদন্তি ফুটবল খেলোয়াড় (জন্ম : ০১/০৯/১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ)।
২০১৩ : জার্মান বংশোদ্ভূত ফরাসি কূটনীতিক ও লেখক স্টেফানে হেসেল মৃত্যুবরণ করেন।
২০১৫ : রাশিয়ান শিক্ষাবিদ, রাজনীতিক ও প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী বরিস নেমটসভ।

যুক্তরাজ্যের সুপ্রিমকোর্ট : জঙ্গি শামীমা দেশটিতে ফিরতে পারবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : লন্ডন থেকে কিশোর বয়সে পালিয়ে সিরিয়া গিয়ে জঙ্গিদল ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দেওয়া শামীমা বেগমকে যুক্তরাজ্য ফিরতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ রায় দেওয়া হয় বলে জানায় বিবিসি।

সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া ওই রায়ে বলা হয়, শামীমাকে যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি না দেওয়া তার অধিকারের লঙ্ঘন নয়।

আইএসে যোগ দিতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের আরো দুই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে সিরিয়া পালিয়ে যান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা। পরে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে। যার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়তে যুক্তরাজ্যে ফেরার আবেদন করেছিলেন শামীমা।

২১ বছরের শামীমা এখন উত্তর সিরিয়ায় সশস্ত্র রক্ষীদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি শরণার্থী শিবিরে আছেন। সিরিয়ায় আইএস উৎখাত অভিযানে আশ্রয় হারিয়ে শামীমার এই শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই হয়। ২০১৯ সালে সেখানে প্রথম তার খোঁজ মেলে। সেখানে তার একটি সন্তানও হয়েছিলো, যে পরে মারা যায়।

তখন থেকেই শামীমা যুক্তরাজ্যে ফেরার আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে ওই সময়ের যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ শামীমার দেশটিতে ফেরায় বাধা দেন। শামীমার যুক্তরাজ্যে ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ করতে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্বও কেড়ে নেওয়া হয়।

এর পর শামীমা তার আইনজীবীর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন।

শামীমার আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, ব্রিটিশ সরকার ‘অবৈধভাবে’ তাকে রাষ্ট্রহীন করেছে এবং তার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তা ছাড়া, যুক্তরাজ্যে ফিরতে না পারলে শামীমার পক্ষে আইনি লড়াইও ঠিকমত চালানো সম্ভব নয়। কারণ, সিরিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে শামীমা তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে কিংবা ভিডিও কলের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিতে পারছেন না।

গত বছরের জুলাইয়ে আপিল আদালত তাদের রায়ে জানায়, শামীমাকে সুষ্ঠু শুনানি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সিরিয়ার ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় তার পক্ষে আইনি লড়াই চালানো সম্ভব নয়। এ কারণেই তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি দেওয়া উচিত।

যুক্তরাজ্য সরকার পরে সুপ্রিম কোর্টকে আপিল আদালতের ওই রায় পুনর্বিবেচনা করতে বলে। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তার রায় এলো।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট লর্ড রিড বলেন, সরকারের শামীমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফিরতে বাধা দেওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে।

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব আপিল গ্রহণ করছে এবং শামীমা বেগমের ক্রস-আপিল বাতিল করছে।’

শামীমার বিষয়ে আপিল আদালত ভুল রায় দিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মামলার বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মত দেন লর্ড রিড।

বলেন, ‘আপিল আদালত ভুলবশত বিশ্বাস করেছিল, যখন একজন ব্যক্তির সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকারের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয়তা সাংঘর্ষিক অবস্থায় থাকে তখন অবশ্যই ব্যক্তির সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার ‍অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

‘কিন্তু সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার অধিকার সব সময় সব পরিস্থিতির উপরে থাকতে পারে না, বিশেষ করে বিষয়টি যখন জনগণের নিরাপত্তার সঙ্গের জড়িত।’

তাই সুষ্ঠু বিচার পেতে শামীমাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে বাধ্য করা উদ্ভূত পরিস্থিতির যথাযথ সমাধান নয় বলেই মনে করেন লর্ড রিড। তবে শামীমা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অবস্থায় না পৌঁছানো পর্যন্ত ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে তার আইনি লড়াই বিরত রাখা যেতে পারে।

তবে তিনি বলেন, ‘ওটাও সঠিক সমাধান নয়। কারণ, ওটা সম্ভব হতে কত দীর্ঘ সময় লাগবে সেটাও কেউ জানে না। বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে এই উভয়সঙ্কটের সঠিক কোনো সমাধানই আসলে নেই।’

‘লিবার্টি’ নামে একটি মানবাধিকার গ্রুপ শামীমাকে আইনি সহায়তা দিচ্ছে। তারা বলেন, শামীমাকে নিয়ে সর্বশেষ রায় ‘মারাত্মক বিপদজনক নজির’ স্থাপন করেছে।

লিবার্টির আইনজীবী রোজি ব্রিগহাউজ বলেন, ‘নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সিরিয়া থেকে শত শত মানুষকে নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সরকার শুধু শামীমা বেগমকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছে। এমন করলে ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে ‍না।’

একুশ আগস্টে হামলাকারি জঙ্গি ইকবাল র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : একুশ আগস্ট মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি হুজি (হরকাতুল জিহাদ) সদস্য ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

ইকবাল ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সভামঞ্চে গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিলেন।

ঘটনার ১৬ বছর এবং আদালতের রায়ের ৩ বছর পর মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইকবালকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়।

র‌্যাবের বলছে, ঝিনাইদহের ইকবাল এক সময় ছাত্রদলে যুক্ত থাকলেও পরে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদে (হুজি) জড়িয়ে পড়েন।

২০০৮ সালে তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

২০২০ সালের শেষ দিকে তিনি দেশে ফেরেন।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনিটির মহাপরিচালক চৌধুরী আবব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভোর ৩টার দিকে ইকবাল হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর ওরফে সেলিমকে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া তথ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ আভিযানিক দল ইকবালকে গ্রেপ্তারে সমর্থ হয়।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০৪ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়।

নানা প্রতিকূতা পেরিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তাতে জঙ্গিদের পাশাপাশি বিএনপির কয়েকজন নেতাকেও আসামি করা হয়।

র‌্যাব প্রধান আল মামুন বলেন, ২০০৮ সালে ইকবালকে গ্রেপ্তারের জন্য ঝিনাইদহে তার বাড়িতে এবং পরে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছিলো।

‘কিন্তু ইকবাল আত্মগোপন করেন।’

‘ইকবাল ২০০৮ সালে দেশত্যাগ করে। প্রবাসে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় প্রথমে সেলিম এবং পরে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে। এক পর্যায়ে ইকবাল প্রবাসে অবৈধ অভিবাসি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে ২০২০ সালের শেষের দিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।’

গ্রেনেড হামলার মামলার রায় হয়েছিলো ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ওই রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ যে ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তারমধ্যে ইকবালও রয়েছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয় আরও ১১ আসামির।

দণ্ডিত ৩৩ আসামি কারাগারে থাকলেও পলাতক ছিলেন ১৬ জন। ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন পলাতক রইলেন ১৫ জন।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, দেশে ফেরত এসে জঙ্গি ইকবাল তার সমমানদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করতে চেষ্টা করছিলেন।

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল জানায়, সে স্কুল ও কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো। ১৯৯৪ সালে কেসি কলেজ, ঝিনাইদহে ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিলো।’

ইকবাল ১৯৯৫ হতে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় ছিলেন জানিয়ে আল মামুন বলেন, ‘দেশে ফিরে এসে জঙ্গি ইকবাল আইএসডি ফোন ও অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করে। এ সময় সে, সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিরাধে জড়িয়ে পড়ে।’

‘২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনা ও মনস্তাত্বিক পরিবর্তন আসে এবং ঝিনাইদহের স্থানীয় এক জঙ্গির মাধ্যমে সে হরকাতুল জিহাদে যোগদান করে। ২০০৩ সালে মুফতি হান্নান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে চলে আসে এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে থাকে।’

২০০৪ সালে হামলার আগেই ইকবাল ঢাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন জানিয়ে র‌্যাব প্রধান বলেন, ‘আগস্ট মাসে মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে ঢাকায় চলে আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে মুফতি হান্নানসহ অন্যান্যদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয় (তার)।’

‘ইকবাল বলেছে, মুফতি হান্নানের নির্দেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল সে। মুফতি হান্নান তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিলো। ইকবাল মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়েছিলো।’

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায়’ আওয়ামী লীগের সেই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো।

অভিজিৎ হত্যা মামলার রায় : জিয়াসহ ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড, ১ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : বিজ্ঞান মনস্ক লেখক ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা মামলায় ৫ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধি বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় দেন।

এ মামলায় অভিযুক্ত ৬ আসামির মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস্), আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।

অপর আসামি উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তাদেরমধ্যে মেজর জিয়া ও আকরাম পলাতক।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

ওইদিনই আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

২০১৯ সালের ১৩ মার্চ আদালতে এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এর পর একই বছর পহেলা আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশনা দেন আদালত। ওই বছরের ২৮ অক্টোবর অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অজয় রায়ের সাক্ষ্যের মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

অবশ্য একই বছর ৯ ডিসেম্বর অজয় রায় পরলোকগমন করেন।

গত ২০ জানুয়ারি মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দেন।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে অভিজিৎকে কুপিয়ে যখম করে সন্ত্রাসীরা।

আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সিটিটিসি প্রধান মনিরুল : জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে ইউরোপ-আমেরিকা থেকেও নিরাপদ ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জঙ্গিবাদের ঝুঁকির দিক থেকে ঢাকা ইউরোপ ও মার্কিন ‍যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরের চেয়েও নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান এবং অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার কোনও শাখা নেই। অস্তিত্বই নেই। দেশে বড় ধরনের কোনও জঙ্গি হামলার আশঙ্কাও নেই।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে ‘সহিংসতা ও চরমপন্থা প্রতিরোধে ইসলামিক বিজ্ঞজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, হলি আর্টিজান দেশকে যে ইমেজ সংকটে ফেলেছিলো, এমন যাতে আর না হয় সেজন্য সবাইকেই কাজ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে আলেম-ওলামাদের। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে তরুণদের বিপথগামী করা হচ্ছে, তা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে আলেমদেরই মুখ্য দায়িত্ব।

‘যে তরুণের মধ্যে ইসলামি স্পিরিট আছে, সে কখনো জঙ্গিবাদে জড়াতে পারে না। যারা জড়ায়, তাদের মধ্যে ধর্ম সম্পর্কে ভাসাভাসা জ্ঞান। জঙ্গিবাদে যারা জড়ায় তারা সব মসজিদে যায় না, নির্দিষ্ট কিছু মসজিদে গিয়ে পড়ে। কারণ তারা বলে সরকারি অনুদানের মসজিদে নাকি নামাজ সহি হয় না।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজানের পর জঙ্গিরা আরও হামলার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলো। একটা মহল তাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে, অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছে, কিন্তু সরকারের পদক্ষেপে তা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ হয়েছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। বৈশ্বিক সূচকে জঙ্গিবাদের ঝুঁকির দিক থেকে ঢাকা এখন ইউরোপ-আমেরিকার অনেক শহরের চেয়ে নিরাপদ।

এ বিষয়ক : দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাসস : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে দল-মতের পার্থক্য ভুলে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন, দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।’

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের প্রথমদিনে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় সংসদকে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে ‘সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার’ ভাষণে আবদুল হামিদ বলেন, গণতন্ত্রায়ন, সুশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন আর্থসামাজিক উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সরকারি দল ও বিরোধি দল নির্বিশেষে মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সংবিধান অনুযায়ি প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছ। আর এ অধিবেশন ২০২১ সালের প্রথম অধিবেশন এবং একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশন। সে হিসেবে রাষ্ট্রপতি আজ সংসদে ভাষণ দেন। নিয়ম অনুযায়ি এ ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের অধিবেশন মোটামুটি সংক্ষিপ্ত হবে। ফলে আলোচনাও সংক্ষিপ্ত আকারে হওয়ার কথা রয়েছে।

ভাষণে তিনি বলেন, শত বাধা বিঘ্ন আর প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সরকার দেশের উন্নয়ন, সুসাশন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন।

এ ছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ২৪টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ২০২০ সালে উন্নয়ন খাতে প্রায় ১ হাজার ৫৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণসহ প্রায় ১ হাজার ৪১৬ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, ৮৫টি সেতু ও ৭৫২টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুননির্মাণ করা হয়েছে।

‘‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’র দুই প্রান্তের মাওয়া ও জাজিরা সংযোগকারী সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান স্থাপন করার মাধ্যমে সেতুর ছয় দশমিক এক-পাঁচ কিলোমিটার মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ জুলাই ২০২২ সাল নাগাদ সমাপ্ত হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের সমম্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।’’

‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৩ দশমিক তিন-দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু লেন বিশিষ্ট টানেলের নির্মাণকাজ ডিসেম্বর ২০২২ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে টানেলের ১ম টিউবের নির্মাণ শেষে গত ১২ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২য় টিউবের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।’

‘ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ১১টি রুটের ২৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২১ সালের জুন নাগাদ সমাপ্ত হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বালিয়াপুর হতে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক দুই-চার কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।’

‘সরকার সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সব ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সাফল্যের সাথে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের ন্যায় আমাদের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পসহ অর্থনীতির সকল সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ দফা নির্দেশনাসহ ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে নানামুখী দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

শেখ হাসিনার দৃঢ়, প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করে এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, এর ধারাবাহিকতায় প্রথিতযশা সাময়িকী ‘ফোর্বস’ কর্তৃক প্রকাশিত বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফল রাষ্ট্রনায়ক ও নারী নেতৃত্বের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

‘কোভিড-১৯ জনিত প্যানডেমিকের সফল মোকাবিলা, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ও জীবনমান সচল রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ প্রণীত ‘কোভিড-১৯ সহনশীল র‌্যাংকিং’-এ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং বিশ্বে ২০তম স্থান অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।’

এজন্য তিনি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিকেলস লিমিটেড এবং ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব লাইফ সাইনসেস প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সিএমএসডি’র মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা হয়।’

‘সরকার খুব শিগগিরই দেশের জনগণকে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান করতে পারবে।’

আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপ্রধান হামিদ বলেন, ‘সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধন এবং প্রাজ্ঞ রাজস্ব নীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

‘দেশের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা রক্ষা, জনগণের আমানতকৃত অর্থের সুরক্ষা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিক লেনদেন সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান এবং বিদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য সরকার কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনকে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল প্রদান করেছে।’

‘‘মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে দুই লক্ষ প্রশিক্ষিত বেকার যুবদের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।’’

গত এক দশকে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ও পর পর তিনবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক এক-পাঁচ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন।

‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিক অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’

‘‘আমরা আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দারপ্রান্তে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথেই আমাদেরকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। এ বছর মধ্য-আয়ের দেশ হিসাবে আমরা ‘স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী’ পালন করবো।’’

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধি দলের সংসদ সদস্যগণ অধিবেশনে অংশ নেন।

এর আগে আজ ৪টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি অধিবেশনে প্রবেশ করেন। এ সময় নিয়ম অনুযায়ি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিকেল ৫টা ৫৯ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের সাক্ষাৎ : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) ওই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ক : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ, বাণি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী