Category: কারাগার, আইন ও আদালত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাবেক মন্ত্রী মতিন খসরু মারা গেছেন : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু।

তাঁর জুনিয়র (সহকারি আইনজীবী) ও ভাগ্নে তাসলিম আহমেদ খান জানিয়েছেন, বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করে চিকিৎসকরা।

মতিন খসরু গত ১৬ মার্চ থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) থেকে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

মতিন খসরুর বয়স হয়েছিলো ৭১ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিন খসরু কুমিল্লা-৫ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য। ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।

মতিন খসরুর জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে।

আওয়ামী লীগে যুক্ত মতিন খসরু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং কুমিল্লা জেলার অবিভক্ত বুড়িচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন।

১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজ কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন মতিন খসরু। পরে ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে নিয়মিত প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন অনেক দিন।

মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকাকালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ খোলা হয়।

গত ১০ ও ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ১২ এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় সমিতির সভাপতির দায়িত্ব নেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৪ জঙ্গিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সমাবেশস্থলে বোমা পুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় ১৪ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবু আব্দুল্লাহ ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় আমরা অভিযোগ প্রমাণিত করতে পেরেছি।

এর আগে গত ১১ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৩ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

এই ঘটনায় মোট ৩টি মামলা হয়েছিলো। তারমধ্যে দুইটি মামলার রায় বিচারিক আদালতে আগেই হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) অপর মামলার রায় ঘোষণা হলো।

বোমা পুঁতে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলা : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসেছিলো ১৯৯৬ সালে।

সেই সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০০ সালের ২০শে জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে বোমা পেতে রাখা হয়েছিলো। সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের ওই বোমাটি উদ্ধার করে। পরদিন ২৩শে জুলাই ৪০ কেজি ওজনের আরেকটি বোমা উদ্ধার করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের পাশে একটি চায়ের দোকানের পেছনে এই বোমা পেতে রাখা হয়েছিলো। বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শেখা হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

সেই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট ৩টি মামলা করা হয়।

ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০০১ সালে ১৫ নভেম্বর হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি।

২০০৪ সালের ২১শে নভেম্বর আদালতে ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

তবে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলার রায়ে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় অপর মামলার রায় : এর আগে বোমা পুঁতে হত্যা চেষ্টা মামলা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। রায়ে গুলি করে তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়।

সেই সঙ্গে ১৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতাকর্মি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হত্যাচেষ্টা মামলায় আপিলের রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি ও ১৪ বছর দণ্ডিত ২ আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়েছে। ১৪ বছর দণ্ডিত অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হাবীবুর ও তাঁর ভাই হত্যায় ৬ জনের ফাঁসির রায়

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলা কাগজ; শরীয়তপুর : দুই দশক আগে শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও তাঁর ভাই মনির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শফিক হোসাইন রোববার (২১ মার্চ) আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এ মামলার ৫৩ আসমির মধ্যে ৩ জনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

আর অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ৩৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

শরীয়তপুরের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গসহ ৩ আসামি বিচার চলাকালেই মারা যান।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৬ আসামি হলেন : শহীদ কোতোয়াল, শহীদ তালুকদার, শাহীন কোতোয়াল, শফিক কোতোয়াল, মজিবুর রহমান ও সোলেমান সর্দার।

পাশাপাশি বাবুল তালুকদার, ডাবলু তালকুদার, বাবুল খান ও টোকাই রশিদকে যাজ্জীবন কারদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে জেল খাটতে হবে।

আসামিদের মধ্যে দুই বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে মন্টু তালুকদার, আসলাম সর্দার ও জাকির হোসেন মঞ্জুর। জীবিত আসামিদের বাকি সবাই খালাস পেয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যে ২০০১ সালের ৫ অক্টোবর শরীয়তপুরের জেলা জজ আদালতের সাবেক পিপি হাবীবুর রহমান এবং তাঁর ভাই মনির হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হাবীবুর রহমান ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর ভাই মনির হোসেন ছিলেন পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর হাবীবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত রহমান বাদি হয়ে সাবেক সাংসদ আওরঙ্গসহ ৫৫ জনকে আসামি করে এ হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হাইকোর্ট : এস কে সুর ও শাহ আলম গ্রেপ্তার হচ্ছেন না কেনো

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : অর্থ ‘পাচার’ করে দেশের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের সহযোগি হিসেবে নাম আসার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহি পরিচালক শাহ আলমকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনও কেনও গ্রেপ্তার করছে না, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

দুদক তাঁদের গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ না নিলে আদালত এ বিষয়ে আদেশ দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।

সোমবার (১৫ মার্চ) এ বিষয়ে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম ও খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

শুনানির এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক নজরুল ইসলাম তালুকদার দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, পি কে হালদারের অর্থ আত্মসাত এবং পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার যারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সেই জবানবন্দিতে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিষয়ে দুদকের কী পদক্ষেপ নিয়েছে।

জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কেউ কেউ পলাতক।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার তখন বলেন, ‘এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন?’

দুদকের আইনজীবী তখন বলেন, কমিশনের চিঠির ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে।

বিচারক তখন দুদকের আইনজীবীর কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘গ্রেপ্তার করছেন না কেনো? আপনারা পদক্ষেপ না নিলে আদেশ দিতে বাধ্য হব। আগে তাঁদের ধরেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে মেহমানদারি করতে পারেন না। তাদের অবশ্যই কারাগারে নিতে হবে।’

এদিকে পলাতক প্রশান্ত কুমার হালদারের ওরফে পি কে হালদারের দুই সহযোগি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম আসে।

পিপলস লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারিরাও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই দুই সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে আসছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ আমানতকারির আবেদনে হাইকোর্ট গত ৫ জানুয়ারি ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাদের মধ্যে এস কে সুর চৌধুরীর নামও ছিলো।

অভিযোগ ওঠার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি অন্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন।

আর এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

পি কে হালদার নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন এবং এ কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার ‘যোগসাজশ’ ছিল বলে তদন্তকারিদের ভাষ্য।

বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। ভুয়া ও কাগুজে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুদক।

পি কে হালদারের পালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে এদিন আদালতে দুটি প্রতিবেদন দেয় পুলিশ ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

পি কে হালদার পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কতজন দায়িত্বে ছিলেন, কারা কারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ভূমিকা কী ছিলো, পুলিশের প্রতিবেদনে সেই তথ্য এসেছে।

পাসপোর্ট জব্দে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকার পরও পি কে হালদার কীভাবে দেশ থেকে পালিয়েছেন, তা জানতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রতিবেদনে কী জানিয়েছে প্রশ্ন করলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মানিক বাংলা কাগজকে বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৪টায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিনি (পি কে হালদার) দেশ ত্যাগ করেন। সেদিন ইমিগ্রেশন পুলিশের ৫৯ জন সদস্য বেনাপোল স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।’

পি কে হালদার পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা ছিলো কিনা, প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনও ‘ব্যর্থতা বা গাফিলতি ছিলো না’। পি কে হালদারের পালিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত দুদকের চিঠি তারা পেয়েছে সে পালিয়ে যাওয়ার পরে।’

ডিএজি মানিক বলেন, পি কে হালদার যাতে দেশত্যাগ করতে না পরে সেজন্য ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয় অক্টোবর দুদক। ডাকযোগে পাঠানো সেই চিঠি এসবি পায় ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায়। পরে এসবি সে চিঠি দেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনকারি ইমিগ্রেশন ইউনিটকে পাঠায়। ইমিগ্রেশন ইউনিট ওইদিন পৌনে ৬টায় চিঠি পায়। কিন্তু তার ঘণ্টা দুই আগে বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশ ছেড়ে যান।

‘প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠি পাঠানোর আগে দুদক যদি ২৩ অক্টোবর সকালে টেলিফোনে ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করতো, তাহলে পি কে হালদারের পালানোর পথ হয়তো বন্ধ করা যেতো।’

তবে দুদকের আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন, এক্ষেত্রে কমিশনের কোনো গাফিলতি ছিল না।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদকের লিখিত কপিটা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রিসিভ করেছেন ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। সেটা আরও কনফার্ম করতে সেই চিঠিটা হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো হয় ২টা ৪৩ মিনিটে। সেটা যে তারা রিসিভ করেছেন, সেটিও দুদকের কাছে আছে। সুতরাং দুর্নীতি দমন কমিশনের এখানে কোনও অবহেলা ছিলো না।’

এদিকে অর্থ পাচার রোধ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ (আইএডি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ (এফআইআইডি) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিভাগ (ডিএফআইআইডি) বিভাগে গত এক যুগ (২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত) কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নাম, পদবি, ঠিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগে (আইএডি) গত এক যুগে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৭৫ জন কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে (এফআইআইডি) দায়িত্ব পালন করেছেন ৫০ জন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিভাগ (ডিএফআইআইডি) বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন ১২৯ জন। মোট ৩৫৪ জন বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ৩ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ সময়ে (২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত) অর্থপাচার রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা আছে কিনা, ব্যর্থ হয়ে থাকলে কেনো হলেন, অর্থপাচারের বিষয়টি তারা টের পেয়েছিল কিনা, পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কিনা, তাদের ইন্ধন বা যোগসাজশে অর্থপাচার হয়েছে কিনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে সে তথ্য ছিলো না।

ডিএজি মানিক জানান, এসব বিষয় জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৬ এপ্রিল বিষয়টি পরের শুনানির জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা।

ঠাকুরগাঁওয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বাংলা কাগজকে বলেন, শুক্রবার (১২ মার্চ) ভোর রাতে পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসাদ হোসেন ওরফে জেসি শহরের কলেজপাড়া এলাকার নুরুল মমিনের ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল চোর, অটো রিকশা চোর, নারি নির্যাতনকারি এবং মারপিটসহ বিভিন্ন মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

ওসি বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসাদ হোসেন ও অন্য আর ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালত থেকে ওয়ারেন্ট বের হয়েছে।

‘এরপর থেকেই তারা আত্মগোপনে ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১২ মার্চ) ভোররাতে পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

‘বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্ট বারে ৮ পদ নিয়ে সভাপতি ‘আওয়ামী লীগের’ : ৬ পদসহ সাধারণ সম্পাদক ‘বিএনপির’

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২১-২০২২ সেশনের নির্বাচনে সভাপতি পদসহ ৮টি পদে জয়ি হয়েছে সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদসহ বাকি ৬টি পদে জয়ি হয়েছে বিএনপি সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল।

সভাপতি পদে সাদা প্যানেলের আবদুল মতিন খসরু ২ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নীল প্যানেলের মো. ফজলুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ১৩২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ৩ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি সাদা প্যানেলের আবদুল আলিম মিয়া জুয়েল পেয়েছেন ২ হাজার ২০৪ ভোট।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১০ ও ১১ মার্চ) দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৫ হাজার ৪৮৬ জন। শুক্রবার (১২ মার্চ) রাতে গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনার গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান।

১৪টি পদের বিপরীতে এ নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৫১ জন।

নির্বাচনে সরকার সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) বিজয়িরা হলেন, সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, সহসভাপতি পদে মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা, কোষাধ্যক্ষ ইকবাল করিম ও সহসম্পাদক পদে ব্যারিস্টার সাফায়েত সুলতানা রুমি।

সদস্য পদে সাদা প্যানেল থেকে এ বি এম শিবলী সাদেকীন, মাহফুজুর রহমান রোমান, মিন্টু কুমার মণ্ডল ও মুনতাসীর উদ্দিন আহমেদ বিজয়ি হয়েছেন।

বিএনপি সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলে (নীল প্যানেল) জয়ি হয়েছেন সহ-সভাপতি পদে জালাল উদ্দিন, সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সহসম্পাদক পদে মাহমুদ হাসান।

সদস্য পদে নীল প্যানেল থেকে, পারভীন কাওসার মুন্নি, রেদওয়ান আহমেদ রানজিব ও এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ জয়ি হয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২০-২১ সেশনের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ৬টি পদে জয় পায় সরকার সমর্থক আইনজীবীরা। অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদকসহ ৮টি পদে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা জয় পেয়েছিলো।

শিশু শিক্ষার্থিকে বেধড়ক মারধর : মাদরাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা জানতে চান আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মারকাজুল কোরআন ইসলামি অ্যাকাডেমি মাদ্রাসায় ইয়াসিন ফরহাদকে (৭) একই মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়ার মারধরের ঘটনায় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

১৪ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের মাদরাসার শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা আগামি রবিবারের (১৪ মার্চ) মধ্যে জানাতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও ভিডিও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতের নজরে আনলে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন আদালত।

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, আদালত জানতে চেয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াহহিয়া খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে কিনা।

‘শিশুটির পরিবারকে কোনও চাপ দেওয়া হয়েছে কিনা।’

‘মাদরাসাটি যে অধিদপ্তরের অধীনে তার কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।’

‘পাশাপাশি ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে কি-না, সে ব্যাপারেও জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।’

যমুনা টিভির সৌজন্যে ভিডিও :

ধর্ষণ : ভিকটিমের ছবি-পরিচয় প্রকাশ বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার নারি ও শিশুর ছবি, নাম, পরিচয়, ঠিকানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রসহ অনান্য পরিচয় গণমাধ্যমে প্রচার-প্রকাশ বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, আগামি ৩০ দিনের মধ্যে তা তথ্য সচিব, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র সচিব ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আন্তর্জাতিক নারি দিবসের দিন ৮ মার্চ (সোমবার) রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুননি করেন আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আইমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

মাহফুজুর রহমান মিলন পরে বাংলা কাগজকে বলেন, নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ি কোনও গণমাধ্যমই যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার নারি বা শিশুর ছবি, নাম, পরিচয় এবং কোনও ধরনের ঠিকানা প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে তা করা হচ্ছে। সে কারণে পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু খবর ও প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদনটি করা হয়েছিলো।

‘আদালত ভিকটিমের ছবি, নাম, পরিচয় ও কোনও প্রকার ঠিকানা প্রচার-প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে রুল জারি করেছেন।’

গণমাধ্যম বা সংবাদ মাধ্যমে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার নারি ও শিশুর ছবি, নাম, পরিচয়, ঠিকানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রসহ অন্যান্য পরিচয় প্রচার-প্রকাশ না করা সংক্রান্ত নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৪ ধারা যথাযথভাবে প্রয়োগে বিবাদিদের ব্যর্থতা কেনও ‘বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না’ জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

তথ্য সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সচিব, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আগামি ৩ মে এ বিষয়ে শুনানির পরের তারিখ রেখেছেন আদালত।

নারি হত্যার দায়ে নরের ফাঁসি ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলা কাগজ; মহসিন মিলন, বেনাপোল : যশোরে বৃদ্ধ বোনকে হত্যার দায়ে আব্দুর রহিম (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসি ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আন্তর্জাতিক নারি দিবসের দিন (৮ মার্চ) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এম এ হামিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণা শেষে বিচারক আসামি আব্দুর রহিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সাজাপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম যশোরর মণিরামপুর উপজেলার বিজয়রামপুর গ্রামের মৃত এনায়েত আলী মোড়লের ছেলে।

সরকারপক্ষের আইনজীবী বিমল কুমার রায় বাংলা কাগজকে জানান, পৈত্রিক জমি নিয়ে আব্দুর রহিমের সঙ্গে তাঁর বোন নূরজাহান বেগমের (৬২) দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আসছিলো।

পরে জমির ব্যাপারে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করার জন্য ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে নূরজাহান বেগম তাঁর স্বামীকে নিয়ে আব্দুর রহিমের বাড়িতে যান।

কথাবার্তার একপর্যায়ে আব্দুর রহিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে নূরজাহান বেগমের মাথায় কোপ দেয়।

এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

এ সময় চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসে এবং আব্দুর রহিমকে আটক করে।

তখন নূরজাহান বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নূরজাহান বেগমের ছেলে জিল্লুর রহমান বাদি হয়ে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন।

এপিপি বিমল কুমার আরও জানান, দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আব্দুর রহিমকে ফাঁসি ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।

‘এ রায়ে বাদিপক্ষ সন্তুষ্ট হয়েছেন।’

৩ রিপোর্টে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু স্বাভাবিক

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু স্বাভাবিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি, গাজীপুরের ডিসি ও কারা কর্তৃপক্ষের তিনটি রিপোর্টই এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে অভিহিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এসব তথ্য দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, সব তদন্ত কমিটির অভিমত এই যে মুশতাক আহমেদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। বাথরুমে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে পরে তাকে হাসপাতাল নেওয়া হয়। সুরতহাল রিপোর্টে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই।

‘আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছিলাম। গাজীপুরের ডিসি, তিনিও একটি কমিটি করেছিলেন, আইজি প্রিজন তিনিও তাৎক্ষণিকভবে একটি কমিটি করেন। সবগুলো কমিটির অভিমত একরকম। তাঁরা ভিডিওফুটেজ ও কারাগারে যাঁরা তাঁর সঙ্গে অন্তরীণ ছিলেন, তাঁর রুমে যে কয়জন ছিলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসক যাঁরা ছিলেন, হাসপাতালে যখন নিয়ে গেছেন- তাঁদের সবার অভিমত নিয়ে তাঁরা যে রিপোর্টটি দিয়েছেন, সেই রিপোর্টে বলেছেন, এটা একটা ন্যাচারাল ডেথ হয়েছে। ন্যাচারাল ডেথ মানে অস্বাভাবিক মৃত্যু নয়। সেটাই তারা তাঁদের ইনকয়ারি রিপোর্টের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, আমরা সবগুলো রিপোর্টেই এখন পর্যন্ত এটুকুই পেয়েছি। আমরা ফাইনালি পোস্টমর্টেমের রিপোর্টের পরে আরও বিস্তারিত জানতে পারবো।

‘এই পর্যন্ত আমাদের কাছে যা আসছে। এর মূল হলো এটা ন্যাচারাল ডেথ। তিনি বাথরুমে গিয়েছিলেন। ওয়াশরুমে যাওয়ার পর সেখানেই তিনি অজ্ঞান হন। তারপর তাঁকে কারাগারে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।’