Category: করপোরেট

৪ ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের জালিয়াতি ১৭ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক খাতের জনতা, রূপালী ও অগ্রণী এবং বেসরকারি খাতের সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যতে তুলে নিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। এসব জালিয়াতি করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয় (আইবিপি), লোন ট্রাস্ট এগেনেস্ট রিসিপ্ট (এলটিআর), করপোরেট গ্যারান্টি এবং ভুয়া বন্ধকীর মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়- জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রামের একটি শাখা থেকে এস আলম গ্রুপের সাতটি প্রতিষ্ঠান সাড়ে ১২ কোটি টাকার মূল্যের বন্ধকীর বিপরীতে নিয়েছে ১ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা।

এক্ষেত্রে এস আলম গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, এস আলম ট্রেডিং করপোরেশন, এস আলম রিফাইনড সুগার, এস আলম সুপার ওয়েল, এস আলম কোল্ড রোল স্টিল, এস আলম ভেজিটেবল ওয়েল এবং এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জালিয়াতি করে এসব অর্থ হাতিয়েছে নিয়েছে গ্রুপটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে আরও দেখা গেছে- জনতা ব্যাংক নিয়ম বহির্ভূতভাবে এস আলম গ্রুপের ওই সাত প্রতিষ্ঠানকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাড়ে ১২ কোটি টাকা মূল্যের জমির বিপরীতে ১ হাজার ৯৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী- ওই পরিমাণ ঋণ ছাড় করতে ২ হাজার ৫৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পত্তি বন্ধক রাখার নিয়ম রয়েছে।

অথচ নিয়মের কোনও তোয়াক্কা না করেই এস আলম গ্রুপকে বিপুল অংকের অর্থ ছাড় করে জনতা ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে আরও জানা গেছে- আইবিপির একটি নিয়ম অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে ঋণ শোধ করার কথা এস আলম গ্রুপের। কিন্তু সেটি করে নি এ গ্রুপ।

এক্ষেত্রে দিনের পর দিন সময় বাড়িয়েই গেছে গ্রুপটি। ব্যাংকও তাতে দিয়েছে সায়।

পরে অবশ্য বর্তমানে এস আলম গ্রুপ জনতা ব্যাংকে ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে।

আর ঋণ খেলাপির ব্যাপারে ব্যাংক কোম্পানি আইনে বলা হয়েছে- কোনও ঋণ খেলাপি কোনও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না।

অথচ বর্তমানে ঋণ খেলাপি এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ দায়িত্ব পালন করছেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবেও।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বাংলা কাগজকে বলেন- আইন অনুযায়ী কোনও ঋণ খেলাপি কোনও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদে থাকতে পারেন না।

নানা অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতির ব্যাপারে জানার জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের মুঠোফোন নম্বরে মঙ্গল (২৭ অক্টোবর) ও বুধবার (২৮ অক্টোবর) যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রথম দিকের জালিয়াতির সময় জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পালন করেছেন এস এম আমিনুর রহমান। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

জালিয়াতির ব্যাপারে জানার জন্য এস এম আমিনুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ করা হলেও নিরুত্তর থাকেন এস এম আমিনুর রহমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এস আলম গ্রুপের জালিয়াতির বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায় নি বর্তমানে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ।

এ ব্যাপারে আব্দুছ ছালাম আজাদের সঙ্গে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও প্রথম দফায় সেটিতে কল ঢুকলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এর এক ঘণ্টা পর খুদে বার্তা পাঠিয়ে আবারও কল দেওয়া হয়। তবে তখন অপর পাশ থেকে জানানো হয়- নম্বরটি ব্যস্ত আছে।

জানা গেছে- এস আলম গ্রুপ জালিয়াতির মাধ্যমে যেসব ব্যাংক থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, সেগুলো হলো- সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা ও আগ্রাবাদ শাখা; রূপালী ব্যাংকের আন্দরকিল্লা শাখা, লালদীঘির পূর্বপাড় শাখা, খাতুনগঞ্জ শাখা ও আমিন মার্কেট শাখা; জনতা ব্যাংকের লালদীঘির পাড় ও আগ্রাবাদ শাখা এবং অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘির পাড় শাখাসহ আরও একটি শাখা।

জালিয়াতির ব্যাপারে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

একইভাবে ফোন রিসিভ করেন নি অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস্-উল ইসলাম এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওসমান আলীও।

এ বিষয়ক : ব্যাংক জালিয়াত-১ : অর্থ পাচার ও লুটপাট নিয়েই ছিলেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি!

আগেভাগেই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিএবির শীতবস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে শীত আসার আগেই শীতবস্ত্র প্রদান করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের হাতে প্রতীকী শীতবস্ত্র তুলে দেন বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকেরা।

এ সময় গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল ইসলাম বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডেরও চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ক : ব্যাংক জালিয়াত-১ : অর্থ পাচার ও লুটপাট নিয়েই ছিলেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি!

রন ও দিপু সিকদারের আপিল শুনানি পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : এক্সিম ব্যাংকের করা হত্যাচেষ্টার মামলায় সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার ও তাঁর ভাই দিপু হক সিকদারের আপিল শুনানি মূলতবি করেছেন আদালত। তাঁদের আইনজীবীর সময়ের আরজির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ রোববার (৯ আগস্ট) ওই আপিল শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করেন বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ দুজনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় দুই ভাই দেশের বাইরে থেকে হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। গত ২০ জুলাই হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ তা খারিজ করে দেন। ওইদিন আবেদনকারি ওই দুই ভাইকে জরিমানা হিসেবে হাইকোর্ট করোনাভাইরাসের রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য ১০ হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিতে নির্দেশ দেন। আইন ও সংবিধানপরিপন্থী দরখাস্ত (জামিন আবেদন) এনে আদালতের মূল্যবান সময় অপচয় করায় ওই জরিমানা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বহু প্রতিষ্ঠানের মালিক জয়নুল হক সিকদারের দুই পুত্র হলেন- রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার।

রিজার্ভ চুরির তদন্তে আরও একমাস সময়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : আরও একমাস পেছাল রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়। পিছিয়ে নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর।

আদালত সূত্র জানায়- বেশ কয়েক দফা পিছিয়ে রোববার (৯ আগস্ট) ওই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ নতুন তারিখ ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে এ ঘটনায় ফিলিপাইনের আদালতে মামলা দায়ের করে বাংলাদেশ।

এছাড়া ওই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)–এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬–এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন।

‘দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি যাতে এগিয়ে যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের কাজ করতে হবে এবং আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশটাকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-র গভর্নিং বডির সভার প্রারম্ভিক ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সভায় যোগ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে সব দেশেরই সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যার মধ্যে দিয়েই কীভাবে আমাদের দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের বিনিয়োগ পরিবেশটাকে আকর্ষণীয় করতে হবে।’

তিনি বলেন, আমরা জাতিসংঘ নির্ধারিত এমডিজি খুব দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছি। এখন এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। যে কারণে, ইতোমধ্যে আমরা কতকগুলো বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। যার মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন অন্যতম।

অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে দেশে কখনো বিনিয়োগ আসতে পারে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নৌপথ, রেলপথ, আকাশ পথে যোগাযোগ উন্নত করার জন্য তাঁর সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দেশের উন্নয়নে বিদ্যুৎ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে দেশে এক সময় বিদ্যুৎখাতে অব্যবস্থাপনা এবং সীমিত উৎপাদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা আামাদের ছিল, কিন্তু আজকে বিদ্যুৎ আমাদের উদ্বৃত্ত আছে। গ্যাসের সমস্যা সমাধানে নিজেদের গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকার এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বিনিয়োগের জন্য যেসব পদক্ষেপ তাঁর সরকার নিয়েছে, এর সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কর অবকাশের সুবিধা দিয়েছি, সমগ্র বাংলাদেশে একশ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, উন্নয়নটা যাতে একটা জায়গায় না হয়ে সমগ্র বাংলাদেশে হয় সে ব্যবস্থা তাঁর সরকার নিয়েছে। যেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজে করা যাবে এবং শ্রমিকও খুব সহজে পাওয়া যাবে।

‘শিল্পায়নের ত্বরান্বিত করতে কর রেয়াত দেওয়া হচ্ছে, মুলধনী সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ আমরা দিচ্ছি,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সরকার গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশে ইতোমধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে আসা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ২ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প এবং বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পিএমও সচিব তোফাজ্জ্বল হোসেন মিয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, বিদুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার্স অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি, বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার এন্ড কমার্সের সভাপতি অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা, সবকিছু সহজ করার জন্য আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব। সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে পেরেছি বলেই আজকে আমরা এই রকম একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও এখানে বসে বিডার গর্ভনিং বোর্ডের সভা করতে পারছি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের একটা ধাক্কা আমাদের এসেছে এটা ঠিক কিন্তু আবার একটা সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। সেটা কিন্তু মাথায় রাখতে হবে।

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের যে পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে পরিবর্তিত করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে করার বিষয়েও অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদেরকে আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে হবে, এটার সুযোগ আছে। অনেক দেশে এখন ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ। আমাদের জনসংখ্যা আছে, জমি তৈরি আছে, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা আছে। এই সুযোগটায় আমরা কিন্তু ইনভেস্টমেন্ট আরও বেশি আকর্ষণ করতে পারি এবং আনতে পারি।’

তিনি প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলায় আত্মনিবেদনের জন্যও সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

ইদুল আজহায় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে কোরবানির ইদ ঘিরে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বগতি আশা করা হয়েছিল। আর এমনটিই হয়েছে। আবার সৃষ্টি হয়েছে রেকর্ডেরও।

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মোট ২৬০ কোটি (২ দশমিক ৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনই আসেনি।

গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে রেমিটেন্স বেড়েছে ৬৩ শতাংশ। আর গত জুন মাসের চেয়ে বেশি এসেছে ৪২ শতাংশ।

এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত জুন মাসে ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার। আর গত বছরের জুলাই এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

কুড়ি বছর আগে ২০০১-০২ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫০ কোটি ১১ লাখ ডলার।

এখন এক মাসের রেমিট্যান্সই এর চেয়ে বেশি। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার।

তিন কারণে করোনার দীর্ঘমেয়াদ চান মাফিয়ারা!

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : তিন কারণে করোনাভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদ চান মাফিয়ারা।

প্রথমত, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড সেনিটাইজার ও হ্যান্ডরাব বিক্রি।

দ্বিতীয়ত, হাসপাতালগুলোর ব্যবসা।

তৃতীয়ত, করোনাভাইরাস সংশ্লিষ্ট অন্য সকলের ব্যবসা যেমন হাসপাতালে যন্ত্র সরবরাহকারি।

ফারমার্স ব্যাংক : অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে আরও মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতীসহ ছয়জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়।

জানা গেছে- মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় বাবুল চিশতী ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- বাবুল চিশতীর ছেলে বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকটির সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মতিঝিল শাখা প্রধান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, বগুড়ার আল-ফারুক ব্যাগস লিমিটেডের চেয়ারম্যান চৌধুরী আল ফারুক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেদওয়ানুল কবির চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নিম্মি কবির চৌধুরী।

এহাজারে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়, তাঁরা সংশ্লিষ্টরা পরস্পর যোগসাজশে ঋণের নামে ফারমার্স ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ২১ টাকা নিয়েছিলেন। আসামিরা ওই অর্থ পরিশোধ না আত্মসাৎ ও পাচারের করেছেন।

এক ব্যক্তির কোম্পানির সুযোগ দিয়ে আইনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : এক ব্যক্তির কোম্পানি ব্যবস্থার বিধান রেখে ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২০’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে দুপুরে সচিবালয়ে বৈঠক নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

সংশোধিত আইনে এক ব্যক্তির কোম্পানি নিবন্ধন ব্যবস্থাপনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শেয়ার হোল্ডারধারি ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’র সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংশোধিত আইনে অনলাইনে যেন রেজিস্ট্রেশন করা যায়, সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখনকার বিধান অনুযায়ী ১৪ দিনের নোটিশে বোর্ড মিটিং হয়, কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অনুরোধে সেটি বাড়িয়ে ২১ দিন করা হয়েছে। কারণ অনেকে দেশের বাইরে থাকেন, তাঁদের ভিসাসহ নানা বিষয় রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত এটি করা হয়েছে। এক ব্যক্তির কোম্পানির বিষয়টি যুক্ত হওয়ার ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমরা আশা করি।

সচিব আরও বলেন, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন ২০২০-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগে ট্রাভেল এজেন্সি হস্তান্তরের সুযোগ ছিল না। এখন নিবন্ধন সনদ হস্তান্তর এবং শাখা কার্যালয় স্থাপনের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১১ ধারাতে কোনও আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সর্ব্বোচ ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ লাখ টাকা অথবা উভয় দণ্ড হবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অনেক ট্রাভেল এজেন্সি রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করে, সেটি এখন তাঁরা আর করতে পারবে না। করলে তাঁদের জরিমানা হবে। কারণ তাঁদের কাজ টিকিট করে দেওয়া, ভিসা প্রসেসিং নয়। ফলে এখন থেকে ট্রাভেল এজেন্সি আর ভিসার কাজ করতে পারবে না। আর নির্ধারিত সময়ের পর জরিমানা দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি নবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এখন থেকে ট্রাভেল এজেন্সি অনুমোদন সাপেক্ষে দেশে ও বিদেশে শাখা অফিস খুলতে পারবে বলেও জানান মন্ত্রীপরিষদ সচিব।

দেশে হুলস্থুল কাণ্ডের মধ্যেই পুনরায় নিয়োগ পেলেন ফজলে কবির

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : দেশে যখন স্বাস্থ্য খাত নিয়ে হুলস্থুল চলছে, ঠিক সেই সময়ে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন ফজলে কবির। এ হিসাবে তাঁকে তিন দফায় নিয়োগ দিলো সরকার।

জানা গেছে- বাংলা ব্যাংক অর্ডার,১৯৭২ সংশোধনের পর ফজলে কবিরকে তৃতীয় দফায় নিয়োগ দেওয়া হলো। যা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন- বাংলা কাগজ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- গভর্নর পদে থাকাকালে ফজলে কবির সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী- বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, অর্থ্যাৎ ২০২২ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত ফজলে কবির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

এতদিন ধরে বলবৎ থাকা ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকার সুযোগ ছিল। গত ২ জুলাই ফজলে কবির সেই বয়সসীমায় পৌঁছান।

সাতষট্টি বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে থাকার সুযোগ তৈরি করে গত ৯ জুলাই ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেনডেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২০’ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

প্রসঙ্গত, ফজলে কবিরের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ১৯ মার্চ। কিন্তু গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে তাঁর মেয়াদ ৬৫ বছর বয়স, অর্থাৎ ৩ মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

জালনোট চক্রের টার্গেট ইদ, কঠোর অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জালনোট চক্রের টার্গেট ইদুল আজহা। এই টার্গেটেই চক্রগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তবে অন্যবারের ন্যায় এবারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধরা পড়ছে জালনোটের ‘হোতারা’।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর বিভাগ ডবলমুরিং থানাধীন চৌমুহনী এলাকা থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকার জালনোটসহ প্রতারক চক্রের সদস্য মো. শাহ আলমকে (৬৫) গ্রেপ্তার করে।

এসব জালনোটের পরিমাণ মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। গ্রেপ্তার হওয়া মো. শাহ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা মন্দবাগ এলাকার আলফু মিয়ার ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানাধীন চৌমুহনী সুলতান কলোনিতে থাকেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক বাংলা কাগজকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকার জালনোটসহ শাহ আলম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাহ আলম গত দুই বছর ধরে জালনোট বাজারে ছেড়ে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, পবিত্র ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নতুন নোট ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রানীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এই অর্থ ছাড়া হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। এরই অংশ হিসেবে নতুন নোটের সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটে জালনোট ছড়িয়ে দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে জালনোট চক্র।

রিজেন্টের মূল কার্যালয় ও হাসপাতাল সিলগালা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্টের মূল কার্যালয় সিলগালা করার কাজ চলছে। রোগীদের স্থানান্তরের পর সিলগালা হবে হাসপাতাল দুটিও। র‌্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকেই অপকর্মগুলো হতো, সে কারণে এটি সিলগালা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

সোমবার (৬ জুলাই) রাতেই মো. সাহেদের মালিকানাধীন হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, ওই গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই তিনি এ কাজ করতেন বলে জানিয়েছে তারা।

তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। শিগগিরই মামলা হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার রাত ১১টার দিকে রিজেন্টে অভিযান শেষে র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, করোনায় সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে বেলা দুইটা থেকে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে একটি দল প্রথমে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়। সেখান থেকে আটজনকে আটকের পর র‍্যাবের দলটি মিরপুরে রিজেন্টের অন্য শাখায় অভিযান পরিচালনা করে।

৬ জুলাই রাত ১১টার দিকে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম বাংলা কাগজকে বলেন, ‌‘আমরা নিয়মিত মামলা করতে যাচ্ছি। এই মামলার এক নম্বর আসামি হবেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ। এখন পর্যন্ত র‍্যাব চারজন আসামির সম্পৃক্ততা পেয়েছে।’

অভিযান চলার সময় র‍্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিন ধরনের অভিযোগ ও অপরাধের প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন। প্রথমত, তারা করোনার নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করত। এ ধরনের ১৪টি অভিযোগ র‌্যাবের কাছে জমা পড়ে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান। দ্বিতীয়ত, হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে। কিন্তু তারা রোগীপ্রতি লক্ষাধিক টাকা বিল আদায় করেছে (এ সময় সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকর্মীদের বিলের নথি দেখান)। পাশাপাশি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়েছে—এই মর্মে সরকারের কাছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বেশি বিল জমা দেয়। সারোয়ার আলম বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল এ পর্যন্ত শ দুয়েক কোভিড রোগীর চিকিৎসা দিয়েছে।

সারোয়ার আলমের ব্রিফিং থেকে জানা যায়, রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তৃতীয় অপরাধ হলো সরকারের সঙ্গে চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের তারা কোভিড পরীক্ষা করবে বিনা মূল্যে। কিন্তু তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে।

সারোয়ার আলম আরও জানান, অভিযানে দেখা গেছে, রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স ২০১৪ সালে শেষ হয়ে যায়। এরপর আর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। কীভাবে সরকার এমন একটি হাসপাতালের সঙ্গে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা চুক্তিতে গেল, তা খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মো. সাহেদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল তিনি বলেন, তাঁর কখনো বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা ছিল না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে তিনি বলেছিলেন, ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দিলে তিনি বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেবেন। ভুয়া পরীক্ষার ব্যাপারেও তিনি কিছু জানেন না। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। এ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সারোয়ার আলম বলেন, র‌্যাব এমন একটি অভিযান চালাবে, তা টের পেয়েছেন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ। অন্য কেউ তাঁর নামে এমন অপকর্ম করছেন, এমন মর্মে সাহেদ দিন দুয়েক আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সারোয়ার আলমের ভাষ্য, মূলত নিজের অপরাধ ঢাকতে জিডির আশ্রয় নিয়েছেন সাহেদ।

তবে রিজেন্ট হাসপাতালের নামে প্রতারণার অভিযোগ এবং সনদ না থাকলেও চুক্তি কেন করা হলো জানতে চেয়ে খুদে বার্তা দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের। উত্তর পাওয়া যায়নি অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক আমিনুল হাসানেরও।

সপ্তাহ কয়েক আগে জেকেজি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পরীক্ষা না করে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্নধার আরিফুল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেকেজির কার্যক্রম দেখতে গেছেন, সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাবরিনা আরিফ চৌধুরী এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।