Category: আমাদের শিশু

শিশুদের প্রধানমন্ত্রী : অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করো

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : শিশু-কিশোরদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি হওয়ার পাশাপাশি ন্যায় ও সত্যের পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৭ মার্চ (বুধবার) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে (ভার্চুয়াল) এই আহ্বান জানান তিনি।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শিশু কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সব সময় যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, সেই সাথে সাথে ন্যায় ও সত্যের পথে চলা। তাহলে জীবনে বড় হতে পারবে। জীবনটাকে উন্নত করতে পারবে। বাবা-মা… তাঁদের মুখও উজ্জ্বল হবে।’

পড়ালেখা ও নৈতিক চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

‘আমি ছোট্ট সোনামনি তোমাদের কাছে এটাই চাই, তোমরা তোমাদের জীবনটাকে সুন্দর কর, লেখাপড়া শেখ। সেই সাথে সাথে তোমাদের দরকার হচ্ছে নিয়ম শৃঙ্খলা মানা, অভিভাবকদের কথা শোনা, শিক্ষকদের কথা শোনা, শিক্ষকদের কথা মেনে চলা, এটা কিন্তু খুব দরকার।’

শিশুদের জীবনকে সুন্দর ও রঙিন করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছোট শিশুদের জীবন আরও রঙিন, আরও সুন্দর, আরও সার্থক করে গড়ে তুলতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমি এটাই চাই, আজকের শিশুরা সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, জীবনটাকে সুন্দর করবে।’

আজকের শিশুই যে আগামি দিনের ভবিষ্যত, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই শিশুরা, তাঁরাই তো একদিন আমাদের মতো প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে বা বড় বড় বৈজ্ঞানিক হবে। তাঁরা যেনো নিজেদের গড়তে পারে, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করে যাচ্ছি।’

নারি ও শিশুর প্রতি নির্যাতন বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নারি ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ প্রণয়ন করেছে। শিশুর উপর কোনও রকম অত্যাচার-নির্যাতন যেনো না হয়।

‘আমরা আমাদের নারি ও শিশু নির্যাতন আইন সংশোধন করেছি। আরও কঠিন শাস্তি যাতে হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’

শিশুরা যেন মাদক-সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সচেতনতা সৃষ্টি করা- জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের প্রভাব থেকে শিশুদের মুক্ত রাখা। মাদকের হাত থেকে শিশুদের মুক্ত রাখা… এদিকে আপনারা যাঁরা বয়স্ক আছেন, মুরুব্বিরা আছেন, অভিভাবকেরা আছেন, শিক্ষকেরা আছেন বা মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যারা আছেন, তাঁদের সবাইকে এবং জনগণের প্রতিনিধি যাঁরা, সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের শিশুদের জীবনটা সুন্দর হোক, আমরা সেটাই চাই।’

শিশু খাদ্য এবং শিশুদের ব্যবহার করা সরঞ্জামাদি যেনো নিরাপদ হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনের পাশাপাশি সরকারের আন্তরিকতার কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন।

শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে বই, বৃত্তি, উপবৃত্তি, প্রতিটি এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করাসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

শিশুদের প্রতি জাতির পিতা ভালোবাসার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘তিনি সব সময় এটাই ভাবতেন যে শিশুরাই তো ভবিষ্যৎ এবং শিশুদের তিনি এতো ভালোবাসতেন বলেই আমরা জাতির পিতার জন্মদিনটাকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছি।’

‘অর্থাৎ শিশুরাও একটা গুরুত্ব পাবে, তাঁদের জন্য একটা দিবস থাকবে। সেই সময়ে সকলেই তাদের কথা চিন্তা করবে, তাঁদের ভালোমন্দ দেখবে। তাদের জন্য কাজ করবে।’

বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের পাবলিক প্লাজার বকুলতলা চত্বরে মহিলা ও শিশু বিয়ষক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসার সভাপতিত্বে এই শিশু-কিশোর সমাবেশ হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। কালক্রমে তাঁর হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ।

শুভ জন্মদিন মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ রাসেল

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদরের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন আজ (১৮ অক্টোবর)।

১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রাসেল।

শহীদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে আওয়ামী লীগের ওয়েবটিম আয়োজিত ওয়েবিনার- বাংলা কাগজ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশদ্রোহী বর্বর-ঘাতক চক্রের নির্মম বুলেটে প্রাণ হারাতে হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর আদরের ছোট ছেলে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শিশু শেখ রাসেলকেও।

কিন্তু ওই নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়েই যেন মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে উঠেছেন শেখ রাসেল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারের কালিমায় হারিয়ে যাচ্ছে ঘাতকের কালো ছায়া, আর ক্রমেই যেন দেদীপ্যমান হয়ে উঠছে শেখ রাসেলের সেই হাসিমাখা মিষ্টি মুখ।

জানতে ইচ্ছে করে- আজ পরিণত বয়সে কী হতেন রাসেল, কেমন হতেন দেখতে!

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ওয়েবটিম আয়োজিত ওয়েবিনারে নিজ ছাত্রের মেধা ও কোমল মনের অকৃত্রিম প্রশংসা এভাবেই প্রকাশ করেছেন তাঁর গৃহশিক্ষিকা গীতালি চক্রবর্তী।

তিনি বলেছেন- শেখ রাসেলকে একবার যেটা শিখিয়েছি, তা সে কোনোদিন ভোলে নাই।

একবার শেখ রাসেল অংক করাতে যে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি, সে প্রসঙ্গে গীতালি জানান, যখন রাসেলকে বলা হয়েছে অংকগুলো না করলে তারা (অংকগুলো) কষ্ট পাবে, তখন অংকগুলো যাতে কষ্ট না পায় তাই ঝটপট অংক করেছিল রাসেল।

তিনি জানান- একইসঙ্গে মেধা ও মননের অপূর্ব সমাহার ছিল শিশু রাসেলের কচি মনে।

শেখ রাসেলকে পড়ানোর প্রসঙ্গে গীতালি চক্রবর্তী আরও বলেন- আমার সামনে পরীক্ষা থাকায় শেখ রাসেলকে পড়াবো না বলে আমি জানিয়ে দেই। এই কথা শুনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বললেন- ৩০ মিনিট? আমি বললাম, তাও সম্ভব না। তিনি আবার বললেন- ২০ মিনিট? আমি চুপ করে রইলাম, মানে ২০ মিনিটও সম্ভব না। তারপর তিনি আবারও বললেন- ১৫ মিনিট? তখন আমার কাছে মনে হলো, একজন মা তার ছেলের জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় চাইছেন, এই সময়টুকু তো আমার দেওয়া উচিত। আমি চেঞ্জ হয়ে গেলাম।

তারপর আমি কাকিমার (বঙ্গমাতার) দিকে তাকিয়ে বললাম, এই রাস্তায় কি বাস চলে? নইলে আমি যাতায়াত করবো কীভাবে? আমার তখনো এই বোধটুকু নেই যে, আমি কাকে যাতায়াতের কথা বলছি। তখন বঙ্গমাতা বললেন- আপনি পড়াবেন? তাহলে যাতায়াতের ব্যবস্থাটুকু আমিই করবো।

গীতালি চক্রবর্তী আরও বলেন- শেখ রাসেল একবার বলে- আমি আর অংক করবো না! আমি প্রশ্ন করলে বলে- আমার ইচ্ছে করে না। এরপর আমি চিন্তা করলাম, কীভাবে শেখানো যায়। বললাম যে, তুমি স্কুলে চকোলেট নিয়ে যাও? সে বললো- হ্যাঁ, আমি বললাম, একা একা খাও, তাই না!, রাসেল বললো- নাহ্, একা খাই না, বন্ধুদের দিয়ে খাই। তখন বললাম, এই যে তুমি দুইটা অংক রেখে দিলে, তারা কষ্ট পাবে না? রাসেল বললো- কেন কষ্ট পাবে? ওরা কী কথা বলতে পারে? খুব অবাক ও! আমি বললাম, এই যে আমাদের বাংলাদেশ আছে, তেমনই একটা অংকের দেশ আছে। তারা নিজেরা নিজেরা কথা বলতে পারে। কষ্ট পেয়ে যাবে। এরপর রাসেল দুটো অংক করে বলে- এখন তো আর ওরা রাগ করবে না। এখন তো আর অংকের দুঃখ নাই। ‘

কথাসাহিত্যিক ও শিশু একাডেমির সাবেক চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন বলেন- আমি তাঁকে স্বাধীনতার স্বপ্নের প্রতীকী শিশু হিসেবে দেখি। রাসেলের হাতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে একটি ছবি আছে, তা দেখলে আমার কাছে প্রতীকী অর্থে সে বড় হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই দেশাত্ববোধ ছিল তাঁর মাঝে। একেবারে পরিবার থেকে পাওয়া।

এ সময় ওয়েবিনারে আরও যুক্ত ছিলেন অভিনেতা ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ।

এ বিষয়ক : শহীদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন রোববার

বয়সে ছোট হলেও শেখ রাসেলের হৃদয় ছিল বড় : গৃহশিক্ষক গীতালি

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : জাতীয় কন্যাশিশু দিবস মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : ঘরে-বাইরে, শহর-গ্রামে, চরাঞ্চল-উপকূলে ছেলে শিশুর সঙ্গে মেয়ে শিশুটিরও ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের। বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ কন্যাশিশু। আর বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ কন্যাশিশু হলেও, তাঁদের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। দেশে নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ ও অগ্রগতি লাভ করেছে। তারপরও কন্যাশিশুর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’—প্রতিপাদ্য নিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২০।

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতির বাণী : জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২০’ উপলক্ষ্যে দেশের সকল কন্যাশিশুর প্রতি রইল আমার আন্তরিক স্নেহ ও ভালোবাসা। এ বছর জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’- অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আজকের কন্যাশিশু আগামী দিনের নারী। তাই প্রতিটি কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুদের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। কন্যাশিশুদের কল্যাণে বিশেষ করে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে অধ্যয়নসহ শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ফলে মেয়েদের শিক্ষার হার বেড়েছে, বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের হার কমে এসেছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি মেয়েরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে ঈর্ষণীয় সফলতা প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশের এসব পদক্ষেপ বহির্বিশ্বেও প্রশংসিত হচ্ছে।

সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ইতিবাচক ভূমিকার কারণে আমাদের নারী ও মেয়েরা আজ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে। নারীর সার্বিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিং প্রতিরোধসহ সামাজিক ও পারিবারিক বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে কন্যাশিশুদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদ্‌যাপনের মাধ্যমে এ বিষয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি কন্যাশিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সর্বোপরি সমাজ ও পরিবারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমি ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২০’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল কন্যাশিশুর প্রতি আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্নেহাশীষ জানাই। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’-দেশের জন্য নতুন মাত্রা এবং বর্তমান করোনা প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শিশুরাও এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ নয়। আমাদের সরকার এই মহামারি মোকাবিলায় সবদিক থেকে তৎপর রয়েছে। আল্লাহতালার দরবারে বিশেষ দোয়া করি যেন এই সংক্রমণ থেকে শিশুসহ আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই।

আওয়ামী লীগ সরকার নারী ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের প্রতি সকল সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কন্যাশিশুদের কল্যাণে আমরা অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তির প্রবর্তন, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং নারী শিক্ষকদের সংখ্যাবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে জাতীয় শিশুনীতি প্রণয়ন করেছিলেন। তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্তমান সরকার কন্যাশিশুদের কল্যাণে ‘জাতীয় শিশুনীতি ২০১১’, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১’ এবং অধিকতর কঠোর ধারা উপধারা সন্নিবেশ করে পূর্বের আইনটি বাতিল করে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ পাশ করেছে। এছাড়া কন্যাশিশুদের কল্যাণে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমাদের গৃহীত নানামুখী উদ্যোগের ফলে বেড়েছে নারী শিক্ষার হার, কমেছে বাল্যবিবাহ ও যৌতুকের হার। আমাদের নারীরা শিক্ষিত হয়ে ও বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে আয়মুখী কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে। এমনকি আমাদের মেয়েরা ক্রীড়াঙ্গনেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।

আমার বিশ্বাস, কন্যাশিশুদের অধিকার তথা নারী-পুরুষের সমতার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

আমি জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

প্রধানমন্ত্রী : শিশুদের প্রতিদিন একবার পার্ক বা মাঠে নিয়ে যান

বাসস : শিশুদের প্রতিদিন একবার পার্ক বা মাঠে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ‘বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস এবং শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন- ‘শিশুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা সরকার নিচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে অত্যাচার-নির্যাতন, কোনও কিছু হলে সঙ্গে সঙ্গে যেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়/হয় সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ‘বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস এবং শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে- পিআইডি’র সৌজন্যে বাংলা কাগজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- ‘আমরা চাই, আমাদের শিশুরা নিরাপদ থাকবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে এবং মানুষের মত মানুষ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ‘বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস এবং শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে- পিআইডি’র সৌজন্যে বাংলা কাগজ।

তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হন।

শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কাল রাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ১০ বছরের ছোট ভাই শেখ রাসেল, রাসেলের খেলার সাথী ফুপাতো ভাই ১০ বছরের আরিফ, ফুপাতো ভাইয়ের ৪ বছরের ছেলে সুকান্ত, ১৩ বছরের ফুপাতো বোন এবং তাঁদের বাসার গৃহপরিচারিকার ছেলে ৫/৬ বছরের পটকার নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে বলেন- কোনও শিশুর অকাল মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। সেটা আমার দেশেই হোক বা অন্য দেশেই হোক।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন- জাতির পিতার প্রণীত শিশু আইনের আলোকে আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় শিশু শ্রমনীতি ২০১০, জাতীয় শিশুনীতি ২০১১ এবং শিশু আইন ২০১৩ প্রণয়ন করে শিশুদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর শিশুদের আঁকা নির্বাচিত ছবি নিয়ে ‘আমরা এঁকেছি ১০০ মুজিব’ এবং নির্বাচিত লেখা নিয়ে ‘আমরা লিখেছি ১০০ মুজিব’সহ শিশুদের লেখা বইয়ের (২৫টি বইয়ের সিরিজ) মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি বীরা মেন্ডোনকা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম।

শিশুদের পক্ষে এ সময় বক্তব্য দেয় নাবিদ রহমান তুর্য এবং হৃদিকা নূর সিদ্দিক।

এ বিষয়ক : রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ

নওগাঁ : বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহে ভার্চুয়াল আলোচনা

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন। বিশ্ব শিশু দিবস ৫ অক্টোবর। দিবস ও অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাণীটি নিম্মরূপ :

বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’ উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শিশুদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তারাই আগামী দিনে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। এ জন্য তাদের যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। শিশুরা স্নেহ-মমতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠলে আগামী দিনের বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশ্ব হয়ে উঠবে সুন্দর ও শান্তিময়। বিশ্ব শিশু দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর সাথে শিশুর তরে, বিশ্ব গড়ি নতুন করে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও বিনোদনের বিকল্প নেই। এগুলো শিশুর অধিকার। বিশ্বের সকল শিশুর অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি উপলব্ধি করে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ এ সনদে অনুস্বাক্ষরকারী অন্যতম একটি দেশ। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী শিশু অধিকার সংরক্ষণ, শিশুর জীবন ও জীবিকা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি পরিচালনাসহ শিশু নির্যাতন বন্ধ, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের বৈষম্য বিলোপ সাধনে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর পাশাপাশি প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি-২০১০’, ‘জাতীয় শিশু নীতি – ২০১১’ও ‘শিশু আইন-২০১৩’। এসব কর্মসূচি ও নীতিমালা শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

২০২০ সালের সূচনালগ্ন থেকে কোভিড-১৯ মহামারি প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্ব এক কঠিন দুর্যোগ মোকাবিলা করছে। শিশুরাও এই দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। আমাদের স্বপ্ন শিশুর বাসযোগ্য বিশ্ব বিনির্মাণ। শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে মৌলিক অধিকার প্রদানের পাশাপাশি তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলীর উন্মেষ ঘটাতে হবে। আমি আশা করি শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবস ২০২০ উদযাপনে গৃহীত কর্মসূচি শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শিশু স্নেহমমতা ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠুক – বিশ্ব শিশু দিবসে এ আমার প্রত্যাশা।

আমি ‘বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি।

জয় বাংলা।
খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’ উপলক্ষে বাণী প্রদান করেছেন। তাঁর বাণীটি হলো-

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শিশুকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এবারের প্রতিপাদ্য : ‘শিশুর সাথে শিশুর তরে, বিশ্ব গড়ি নতুন করে’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, একদিন তারাই দেশের নেতৃত্ব দিবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনোদন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ‘শিশু আইন’ প্রণয়ন করেন। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অন্যতম অনুস্বাক্ষরকারী দেশ।

বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা জাতীয় শিশুনীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছি। আমরা শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০, শিশু আইন ২০১৩ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছি। পথশিশু, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ও প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছি। পরিত্যক্ত শিশুদের সেবা ও ভাতা প্রদান, পথশিশুদের পুনর্বাসনসহ তাদের জীবনমান উন্নত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। শিশুর শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে স্কুল টিফিন, শিশুর জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পাশাপাশি, বর্তমান সরকার হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্র কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং চা-বাগান ও গার্মেন্টস কর্মীদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার স্থাপন ও পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আমরা দেশের সকল শিশুর সমঅধিকার নিশ্চিত করে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করে যাচ্ছি। শিশুর সার্বিক বিকাশ ও অধিকার বাস্তবায়নে এবং শিশুদের প্রতি সহিংস আচরণ ও নির্যাতন বন্ধের ক্ষেত্রে পিতা-মাতা, পরিবার ও সমাজের সকলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ শীর্ষক করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্ব বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। শিশুরাও এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ নয়। আমাদের সরকার এই মহামারি মোকাবিলায় সব দিক থেকে তৎপর রয়েছে। আমি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাসহ সকল সচেতন নাগরিককে শিশুদের কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
আমি আশা করি, দেশের শিশুদের আগামী নেতৃত্বের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হব।

আমি ‘বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০’-এর সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

এ বিষয়ক : আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ৮ সেপ্টেম্বর, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরার অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাংলা কাগজ : জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে ২০৪১ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশ করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বিশ্বব্যাপী নারীর সমতা, ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতি অর্জনে মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

রোববার (৪ অক্টোবর) তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান- দিবসটির প্রতিপাদ্য শিশুর সাথে শিশুর তরে, বিশ্ব গড়ি নতুন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মুজিবর্ষে প্রকাশিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মভিত্তিক ২৫টি শিশু গ্রন্থমালা, শিশুদের আঁকা নির্বাচিত ছবি নিয়ে ‘আমরা এঁকেছি ১০০ মুজিব’ ও শিশুদের নির্বাচিত লেখা নিয়ে ‘আমরা লিখেছি ১০০ মুজিব’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করবেন।

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপন করে থাকে। ৬ অক্টোবর ‘আমরা সবাই সোচ্চার, বিশ্ব হবে সমতার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন করা হবে।

শিশু দিবসের অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অনালইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে পোস্টার, ফেস্টুন-ব্যানার স্থাপন, ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের সকল জেলা এবং উপজেলায় বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উদযাপন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফরিদা পারভীন ও ড. মহিউদ্দীন আহমেদ এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ক : তথ্যমন্ত্রী : সিনেমা শিল্পের উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল